‘আমি দাদিমা হয়ে গেছি নাকি?’
‘পেত্রা কেভিতোভা তরুণ শক্তিশালী খেলোয়াড়, মোকাবিলা করবেন কিভাবে?- কেউ একজন শারাপোভার সামনে এমন প্রশ্ন রাখেন সমপ্রতি। তার উত্তর?
ঠিকই বলেছেন। ওর (কোভিতোভা) বয়স মাত্র ২১। হায় ঈশ্বর! আমিতো দাদিমা হয়ে গেছি। আমি ওর চেয়ে ৩ বছরের বড় যে!- মজা ও শ্লেষ মেশানো প্রতিক্রিয়া ছিল শারাপোভার। পরে অবশ্য হাসিমুখে এর ব্যাখ্যা দেন শারাপোভা নিজেই। ‘খুব তরুণ বয়সে শিরোপা জিতেছিলাম তো; এ কারণে আমার ক্যারিয়ারটা অতিরিক্ত লম্বা দেখাচ্ছে হয়তো। আমি ওসব ভাবি না।’ তবে টেনিসে কাটানো দিনগুলো কি শারাপোভার নিজের কাছেও ক্লান্তিকর লম্বা লাগে? অন্যজীবন হাতছানি দেয়কি? বিয়ের দিকে ইঙ্গিত। এমন প্রশ্নের উত্তরটা বিশ্বব্যাপী শারাপোভা ভক্তদের কানে মধুর লাগতে পারে-‘ নিজেকে আমি এখনও টিনএজারই মনে করি’। একবছর ধরে বাস্কেটবল তারকা শাশা ভুজাচিচের সঙ্গে শারাপোভার সম্পর্কের খবরটি যদিও অনেকেরই জানা। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনকে সামনে রেখে মিডিয়ার মুখোমুখি হন বিশ্ব টেনিসের সাবেক এক নম্বর তারকা মারিয়া শারাপোভা। আর এবারের এ আসরটিকে নিজের জন্য অন্য সব বারের চেয়ে আলাদা করে দেখছেন ৩বারের এ গ্র্যান্ডস্লাম বিজয়ী। এ রাশিয়ান টেনিস সুন্দরী বলেছেন- শিরোপা জিততে পারলে এটা হবে তার ক্যারিয়ারের সেরা অর্জন। বলেন, আমার কাঁধের ওই ইনজুরির পর এখন যদি কোন গ্র্যান্ডস্লাম জিততে পারি, সেটা হবে আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় জয়।’ ২০০৯ সালে কাঁধের ইনজুরি নিয়ে শারাপোভাকে টেনিস থেকে দূরে থাকতে হয় দীর্ঘদিন। এ সময় তার র্যাঙ্কিং নেমে যায় ১২৬ নম্বরে। অপারেশন শেষে পুনরায় কোর্টে ফিরলেও টেনিসে শারাপোভার বিধ্বংসী চেহারা পাওয়া যায়নি সেইভাবে। গত উইম্বলডনে শারাপোভার খেলায় পুরনো ঝলক দেখা যায় অনেকটা। কিন্তু ফাইনালে পাওয়ার টেনিসের আরেক তারকা কেভিতোভার কাছে হার মানেন তিনি। টেনিস সার্কিটে প্রচণ্ড হৈচৈ ফেলে দিয়েই আবির্ভাব শারাপোভার। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তুলে নেন টেনিসের বিশ্বকাপখ্যাত উইম্বলডনের শিরোপা। সঙ্গে বিশ্বব্যাপী কর্পোরেটদের নজরকাড়ে এ রাশিয়ানের অপরূপ সৌন্দর্য। কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থে কমার্শিয়াল এনডোর্সমেন্স করে নিতে করপোরেটদের লাইন লাগে শারাপোভার দরজায়। ততদিনে বিশ্ব গ্ল্যামারের সব আলো নিজের দিকে টেনে নেয়া টেনিস সুন্দরী ২০০৬-এ জেতেন ইউএস ওপেন। আর তৃতীয় গ্র্যান্ডস্লাম ২০০৮-এ জিতে নেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেন; এক নম্বর আসনচ্যুত শারাপোভা দাপটি প্রত্যাবর্তনে। ইনজুরি কাটিয়ে শারাপোভার ওটা ছিল প্রথম আসর। ছিপছিপে-লম্বা, সবুজ নয়না ২৪ বছরের শারাপোভা তার মেজাজী পাওয়ার টেনিসের জন্য পরিচিত। জোরদার ব্যাকহ্যান্ড-ফোরহ্যান্ডের মতো ড্রাইভ শট খেলাটা তার পছন্দ। মাত্র ৪ বছর বয়সে রাশিয়ায় টেনিস শুরু করে তিন বছর যেতেই পৌঁছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার নিক বলিতিয়ারি একাডেমিতে। ১৪ বছর বয়সে নাম লেখান পেশাদার টেনিসে। শারাপোভা বলেছেন, টেনিসের বাইরে সাদাসিধে জীবন-যাপনই তার পছন্দ। বলেন, আমার জন্য সরল স্বাভাবিক জীবন চাইবো আমি। পেশাদার ও ব্যক্তিগত আচার ব্যবহারে পার্থক্য ও সমন্বয় রাখতে জানেন, মনে করেন শারাপোভা। ক্যারিয়ারে ২৪টি শিরোপার মালিক শারাপোভার টেনিস কোর্টের বাইরের আয়টা উল্লেখযোগ্য। টেনিস খেলে তার অর্জিত ক্যারিয়ার প্রাইজমানি ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এন্টি ড্যানড্রপ শ্যাম্পু, টিফানি জুয়েলারি ও ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রতিষ্ঠান নাইকি’র সঙ্গে এনডোর্সমেন্ট থেকে শারাপোভার আয়টা এর বহুগুণ। আর নারী খেলোয়াড়দের মধ্যে বিশ্বে সর্বোচ্চ।








