চোখের জলের প্রতিদান দিতে প্রস্তুত তাসকিন আহমেদ

চোখের জলের প্রতিদান দিতে প্রস্তুত তাসকিন আহমেদ

Screenshot_21

আজও সেই দিনটির কথা মনে পড়লে বিষন্ন হয়ে যান তাসকিন আহমেদ। এমনিতেই মনটা অনেক খারাপ ছিল নিষেধাজ্ঞার খবরে। এর মধ্যেই শুনলেন তাকে হারানোর ফলে সংবাদমাধ্যমের সামনে কান্নাই ভেঙে পড়েছেন সকলের প্রিয় অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। সেই তাসকিন আহমেদ এখন মুক্ত। তিনি এমনটাই প্রতিজ্ঞা করছেন, মাশরাফি বিন মুর্তজার অশ্রুর মূল্য দেবেন বল হাতেই। চোখের জলের প্রতিদান দিতে প্রস্তুত তাসকিন আহমেদ
দিনটি ছিল গত ২০ মার্চ। বেঙ্গালুরুতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছিল বাংলাদেশ। আগের দিনই তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানিকে বোলিংয়ে নিষিদ্ধ করেছিল আইসিসি। খবরটিতে গোটা দলই ছিল হতাশ। বিশেষ করে তাসকিন আহমেদের মতন একজন বোলারের নিষেধাজ্ঞা মেনে নিতে পারছিল না গোটা দল।

আবেগটা বেশি ছুঁয়ে গিয়েছিল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকে। ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তাসকিনকে নিয়ে ‘অবিচার’ হয়েছে বলে বারবার বলেছেন তিনি। কথা বলতে বলতেই বারবার ধরে এসেছে কণ্ঠ। সংবাদ সম্মেলনে থেকে বেরুনোর পর এক পর্যায়ে আর ধরে রাখতে পারেননি চোথের পানি। ক্ষোভ, হতাশা, অসহায়ত্বের কান্না, যা ছুঁয়ে গিয়েছিল সকল ক্রিকেট প্রেমী সহ বিদেশি সাংবাদিকদেরও। চোখের জলের প্রতিদান দিতে প্রস্তুত তাসকিন আহমেদ

সে সময় মাঠে ছিলেন না তাসকিন। তবে সবার কাছে শুনে ও সংবাদমাধ্যমে মাশরাফির কান্নার কথা জেনে কেঁদেছিল তাসকিনের ভেতরটাও। বরাবরই যাকে আদর্শ মেনে এসেছেন, ছোট ভাইয়ের মতো তাকে আগলে রাখেন যিনি, সেই অধিনায়কের কান্না স্পর্শ করেছিল তাসকিনকে ভীষণভাবে।চোখের জলের প্রতিদান দিতে প্রস্তুত তাসকিন আহমেদ

৬ মাসের কঠিন লড়াই শেষে সেই নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ। তবে ভোলেননি কঠিন সেই সময়ের কথা, ভোলেননি অধিনায়কের কান্না…… তিনি জানান।

“মাশরাফি ভাইয়ের ঘটনায় খুব খারাপ লেগেছিল। আমাকে সবসময়ই অন্যভাবে দেখেন তিনি, আগলে রাখেন। সেই সময় পাশে ছিলেন, গত ৬ মাসও দারুণ ভাবে সাহস ও উৎসাহ দিয়ে গেছেন।”

“মাশরাফি ভাই চোখের পানি ফেলেছিলেন, আমার বাবা-মাও অনেক কেঁদেছেন। আরও অনেকেই। আমার কাছে সবারই অনেক প্রত্যাশা। আমি চেষ্টা করব বোলিং দিয়েই সবার ভালাবাসার প্রতিদান দিতে।”

নিষেধাজ্ঞার পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনটি ম্যাচ খেলতে পারেননি তাসকিন আহমেদ। তবে এরপর বাংলাদেশের আর কোনো খেলা ছিল না। যে কারনে তাসকিনকেও মিস করতে হয়নি কোনো ম্যাচ। ফেরার পর সেটাই বাড়তি স্বস্তি দিচ্ছে তাসকিন আহমেদকে।

“অনেক বড় ভার নেমে গেছে। নিশ্চিত হয়ে খেলায় মন দিতে পারব এখন। সবচেয়ে ভালো হয়েছে যে বাইরে থাকার সময়টায় কোনো সিরিজ মিস হয়নি। চেষ্টা করব নিজেকে উজার করে বোলিং করার।”

আপনার মতামত দিন