হ্যাটট্রিক বিশ্বসেরা ফুটবলার মেসি

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও জাভি হার্নান্দেজকে পেছনে ফেলে আবারও বিশ্বসেরা ফুটবলারের মুকুট পরলেন লিওনেল মেসি। সোমবার বাংলাদেশ সময় গভীর রাতে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে এক জমকালো পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ২০১১ সালের বর্ষসেরা ফুটবলারের ট্রফি দেয়া হলো তার হাতে। এ নিয়ে টানা তিনবার বিশ্বসেরার পুরস্কার ঘরে তুললেন আর্জেন্টাইন এ ফুটবল জাদুকর। মেসির আগে টানা তিনবার বিশ্বসেরা ফুটবলার হওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন ফ্রান্সের মিশেল প্লাতিনি। তিনি টানা তিনবার এ পুরস্কার জিতেছিলেন। তিনবার করে এ পুরস্কার পাওয়ার তালিকায় আছেন ফ্রান্সের কিংবদন্তি ফুটবলার জিনেদিন জিদান, ব্রাজিলের রোনালদো ও হল্যান্ডের মার্কো ভ্যান বাস্তেন। তবে এদের কেউই পরপর তিনবার এ পুরস্কারটি জিততে পারেননি। সেদিক থেকে টানা তৃতীয়বারের এ পুরস্কার জিতে নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন মেসি। সদ্য সমাপ্ত ২০১১ সালে ক্লাব ফুটবলে অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণেই বিশ্বসেরার বরমাল্য পরেছেন এ ২৪ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন। ব্যক্তিগতভাবে যতটা উজ্জ্বল ছিলেন, ততটা দলকে একের পর এক সাফল্য এনে দিয়েছেন মেসি। স্প্যানিশ লিগ, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের মতো মযার্দাপূর্ণ শিরোপা জয়ে অসামান্য অবদান রেখেছেন তিনি। নিজে গোল করেছেন, করিয়েছেনও অসংখ্য। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মেসির জোড়া গোলে বার্সেলোনার কাছে হেরে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেয় তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ। পরে ওয়েম্বলিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতে বার্সেলোনা। নিজ দেশ আর্জেন্টিনার জাতীয় দলে গোল খরায় কাটলেও বার্সেলোনার সর্বকালের সেরা গোলদাতার তালিকায় দুই নম্বরে উঠে এসেছেন মেসি। ২০০৪ থেকে এ পর্যন্ত বার্সেলোনার হয়ে ২১১ গোল করেছেন তিনি। বার্সেলোনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা স্পেনের সিজার রুদ্রিগেজকে টপকে যেতে আর মাত্র ২৫ গোল পিছিয়ে আছেন আর্জেন্টাইন এ স্ট্রাইকার। ১৯৪২ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনার জার্সি গায়ে রেকর্ড সর্বোচ্চ ২৩৫ গোল করেছিলেন সিজার। তার রেকর্ড ভেঙে অচিরেই বার্সেলোনার সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়বেন মেসি, এতে সন্দেহ নেই। ২০১১ সালের অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য টানা তৃতীয়বার বিশ্বসেরা ফুটবলার ঘোষিত হওয়ার পর লিওনেল মেসি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে এটা আমার কাছে দারুণ এক অর্জন। তৃতীয়বারের মতো আমি বর্ষসেরা নির্বাচিত হয়েছি। এতে খুবই ভালো লাগছে। তবে এ জন্য আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে আমার সতীর্থ, প্রশিক্ষক, চিকিত্সক, কোচ (পেপ গার্দিওলা) ও বার্সেলোনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। এরই সঙ্গে আর্জেন্টিনা দলকেও ধন্যবাদ জানাই।’ উয়েফার বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিশেল প্লাতিনির পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে টানা তিনবার বিশ্বসেরা হওয়ার পর মেসি আরও বলেন, ‘আমি এ সেরার মর্যাদার ভাগ জাভিকেও দিতে চাই। সে আমার মতো এ পুরস্কারের দাবিদার ছিল। সে সব সময় আমার পাশে ছিল। আমার সঙ্গে সেও দারুণ খেলেছে।’

লিওনেল মেসির সঙ্গে তার গুরু পেপ গার্দিওলাও বিশ্বসেরা কোচের পুরস্কার জয়ের আনন্দ উদ্যাপন করেছেন। রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হোসে মরিনহো ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনকে পেছনে ফেলে এ পুরস্কার জিতে নেন গার্দিওলা। বিশ্বসেরা কোচ নির্বাচিত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় গার্দিওলা বলেন, ‘আমি এ পুরস্কার উত্সর্গ করছি হাজারও মানুষকে। যারা বছরের পর বছর বার্সেলোনার উন্নতিতে কাজ করেছে। যাদের কল্যাণে বার্সেলোনা আজ বিশ্বের এক নম্বর দলে পরিণত হয়েছে।’ বিশ্বসেরা কোচের পুরস্কার না পেলেও ফিফা প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ফার্গুসন। ওল্ডট্রাফোর্ডে ২৫ বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রমের সুবাদে ফার্গুসনের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটার। মেসির প্রশংসা করে ফার্গুসন বলেন, মেসি বিশ্বসেরা ফুটবলার, এতে সন্দেহ নেই। ব্রাজিলিয়ান জীবন্ত কিংবদন্তি পেলে সেরা না মানলেও ফার্গুসনের মতে মেসি সময়ের সেরা ফুটবলার। বিশ্বসেরা পুরস্কার পেলেও ফিফা পুস্কাস অ্যাওয়ার্ড পেলেন না মেসি। সঙ্গে ইংলিশ ফুটবলার ওয়েন রুনিও বঞ্চিত হলেন। সেরা গোলদাতার পুরস্কারটি জিতে নিলেন সান্তোস তারকা নেইমার। পালার্মোর বিপক্ষে নেইমারের সলো গোলটিই সেরার মর্যাদা পেয়েছে। এদিকে মহিলা ফুটবলারদের মধ্যে ফিফা ব্যালন ডি’অর পেলেন জাপানিজ মিডফিল্ডার হোমারা সাওয়া। জার্মানিতে প্রথমবারের মতো জাপানের মহিলা বিশ্বকাপ জয়ে সেরা পারফরম্যান্স করে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন সাওয়া। টুর্নামেন্টের সেরা গোলদাতার পুরস্কারটিও জেতেন তিনি। ব্রাজিলের মার্তা ও আমেরিকান স্ট্রাইকার আবি ওয়ামবেচকে পেছনে ফেলে মহিলা বিশ্বসেরা ফুটবলার নির্বাচিত হন সাওয়া। মহিলা ফুটবলের সেরা কোচের পুরস্কার পান জাপানের নারিও সাসাকি। আমেরিকার সুইডিশ কোচ পিয়া সান্ডাজকে পেছনে ফেলেন তিনি।

২০১১ সালের বিশ্বসেরা একাদশকে লা লিগা একাদশ বলা যেতেপারে। বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের অধিকাংশ খেলোয়াড় এই ১১জনে সুযোগ পেয়েছেন। বার্সার পাঁচ ও মাদ্রিদের চার। রুনি এবং নুমানজা ভিদিচ আছেন এই একাদশে। সেরা একাদশ : ক্যাসিয়াস, রামোস, পিকু, ভিদিচ, দানি আলভেজ, জাভি, আলানসো, ইনিয়েস্তা, রোনালদো, ওয়েনি রুনি ও লায়নেল মেসি।