শক্ত অবস্থানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তবে শেষ বিকালটি বাংলাদেশের হতে পারতো

সাহারা কাপ বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের প্রথম টেস্টে ৩৬১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে। দ্বিতীয় দিনে মধ্যাহ্ন ভোজের কিছু সময় পর ৫২৭ রান করে নিজেদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে ক্যারিবীয়রা। দ্বিশতক হাকানো শিবরায়োন চন্দরপল ২০৩ ও উইকেট কিপার রামদিন ১২৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। ক্যারিবীয়দের বোলিং আক্রমেণর বিপক্ষে বাংলাদেশের ৮ নম্বর পর্যন্ত ব্যাটিং লাইন আপ। তারপরও অতীতের মতো এবারো ফলোঅনের শংকা নিয়ে মাঠে নামাটাই স্বাভাবিক।

৩২৮ রানের ফলো অনের বিপক্ষে ব্যাটিং করতে নেমেই বাংলাদেশের প্রথম সারির ব্যাটসম্যানরা একদিনের ক্রিকেটের মেজাজে ব্যাটিং শুরু করেন। দলীয় অর্ধশত রান আসে মাত্র ৭.৩ ওভারে! যেখানে গতকাল ক্যারিবয়দের প্রথম অর্ধশত রান আসে ১০.৪ বলে। দলীয় ২৫ রানে প্রথম উইকেট হারালেও ওপেনার তামিম ইকবাল এক বছর পর দলে ফেরা নাফিসকে নিয়ে বেশ বড় জুটি গড়ার আশা জাগিয়ে তুলেন। জুনায়েদ ৭ রানে আউট হয়ে ফিরে যান। রক্ষণাত্তক ভঙ্গিতে খেলার চেয়ে আক্রমণাত্তক ক্রিকেটকেই বেছে নেন তামিম ও নাফিস। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে নাফিস ও তামিম ৬৩ রানের জুটি গড়ে তোলেন। নাফিস ২৭ বলে ৩১ রান করে ফিরে গেলেও তামিম বেশ আক্রমণাত্তক ভঙ্গিতে খেলে নিজের অর্ধশত রান করেন। সুনিল নারিনের দ্বিতীয় ওভারে লং অনের উপর দিয়ে ছয় মেরে নিজের ক্যারিয়ারের ১১ তম অর্ধশত উদযাপন করেন। কিন্তু ব্যাটিং এর সেই আক্রমণাত্তক ধারের কারণে নিজের মূল্যবান উইকেটটি বিলিয়ে এসেছেন ক্যারিবীয়দের কাছে। অধিনায়ক স্যামির করা ইনিংসের ২৩ তম ওভারের শেষ বলে অফ স্ট্যাম্পে অনেক বাহিরের বলকে টেনে পুল করতে গিয়ে মিডঅনে প্রস্তুত থাকা নারিনের হাতে সহজ ক্যাচে পরিণত হন । ব্যক্তিগত ৭২ রানে আউট হয়ে ফিরে যাবার আগে মাঠের দর্শকদের কে ১০ টি চারের মার ও ২টি ছয়ের মার উপহার দেন। তামিমের ফিরে যাবার পর ক্রিজে থাকা নাঈম ইসলাম ও সাকিব দিনের বাকিটা সময় ব্যাটিং করে ১৬৪ রানে দিন শেষ করে। সাকিব ১৬ রানে ও নাঈম ইসলাম ২৭ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচের তৃতীয় দিন শুরু করবেন। বাংলাদেশের ফলো অন এড়াতে এখনোও ১৬৪ রান সংগ্রহ করতে হবে। হাতে আছে আরও ৭ উইকেট।
চন্দরপল(১২৩) দিনের শুরু থেকেই তার দ্বিশতক আর রামদিন(৫২) তার ক্যারিয়ারে তৃতীয় শতকের লক্ষে দেখে শুনে খেলা শুরু করেন । বাংলাদেশের বোলাদেরকে সহজে খেলে উইকেটের চারিপাশে রান তুলে শেষমেশ দুই ব্যাটসম্যানই তাদের গন্তব্যে পৌছে। দুই ব্যাটসম্যানই অপরাজিত থেকেই ইনিংস শেষ করেন। ক্যারিবীয়রা ৪টি উইকেট খরচায় এই পাহাড় সমান রান করে। অভিষিক্ত সোহাগ ৩টি ও পেসার শাহাদাত ১টি উইকেট নেন।

সংৰিপ্ত স্কোর:
দ্বিতীয় দিন শেষে
ওয়েস্ট ইন্ডিজ – ৫২৭/৪ (ডিক্লেয়ার)

চন্দরপল- অপরাজিত ২০৩, রামদিন- অপরাজিত ১২৬,পাওয়েল ১১৭

সোহাগ গাজী- ৪৭-৭-১৪৫-৩, শাহাদাত হোসেন- ২১-৩-৮৫-১

বাংলাদেশ- ১৬৪/৩

নাঈম- অপরাজিত ২৭, সাকিব-অপরাজিত ১৬, তামিম ৭২

রবি রামপল- ৮-০-৪৯-২, স্যামি- ৫-০-২১-১

আপনার মতামত দিন