খুলনায় ৭ উইকেটের জয়ে ১-০ তে সিরিজে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। টপ অর্ডারে গেইল-সিমন্সের জুটিতে ৪৮। মিডল অর্ডারে পোলার্ড-ব্রাভো জুটিতে ৫০ ও লোয়াড় অর্ডারে রবি রামপল-সুনিল নারাইন জুটিতে সংগ্রহ ৫৭। পুরো দলের সংগ্রহ ১৯৯। বাংলাদেশের স্পিনিং এ্যাটাকে কুপোকাত ক্যারিবীয় শিবির। টাইগারদের সামনে টার্গেট ২০০ রান।
ওপেনিং পেয়ার পরিবর্তন করে তামিমের সাথে অভিষিক্ত আনামুল। ব্যাটিং এ নেমেই ওপেনার তামিমের বিধ্বংসী আক্রমন। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই স্যামুয়েলস মিড অফ দিয়ে চার। নিজের স্বভাবসুলভ ভাবেই খেলে রান তোলায় মনোযোগ দেন তামিম, শুরু থেকেই আক্রমণাত্তক। ৪০ রানে থাকা অবস্থায় তামিম একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বচ্চ রান তোলার রেকর্ডটি টপকে যান। পিছনে ফেলেছেন মোহাম্মদ আশরাফুলকে।
- বাংলাদেশের অভিষিক্ত বোলারদের পৰে সোহাগ গাজী সবচেয়ে বেশী উইকেট ও ইকোনোমি নিয়ে রেকর্ড গড়েছেন। আজ ২.৯৪ রেটে বোলিং করে ২৯ রানে চার উইকেট নেন।
- তামিমের সাথে অভিষিক্ত আনামুল
- তামিম ৫৮
৩৪২৬ রান নিয়ে তামিম দ্বিতীয় ও ৩৬৩৫ রান নিয়ে সাকিব শীর্ষে অবস্থান করছে। মাত্র ১০.৩ ওভারেই চলে আসে দলীয় অর্ধশত রান। তামিম তার নিজের স্বভাবসুলভ ব্যাটিং করে তামিম তার ক্যারিয়ারের টানা ৫ম অর্ধশত রান তুলে নেন। তবে সেই ব্যাটিং ধার আর ধরে রাখতে পারেনি তামিম। ৫৮ রানে নারাইনের বলকে পয়েন্ট দিয়ে উঠিয়ে মারতে গিয়ে কিরন পোলার্ডের হাতে ধরা পড়ে আউট হয়ে ফিরে যান। তবে একপাশ ধরে খেলে অভিষিক্ত আনামুল রান তুলতে থাকে। তবে অযাচিত শটস থেলে নিজের প্রথম উইকেটটি বিলিয়ে আসে। ৪১ রানে স্যামির বলে ফিরতি ক্যাচে আউট হয়ে ফিরে যান আনামুল। তবে তামিমের পর নাঈম ক্রিজে এসে নিজের শক্তিও সামথ্যের সামর্থ্য বিচারে খেলে ইনিংসের শেষ অবদি অপরাজিত থেকে ক্যারিয়ারের তৃতীয় অর্ধশত রান তুলে নেন। আনামুলের বিদায়ের পরে নাসির হোসেন ক্রিজে এসে দ্রুত রান তুলতে থাকেন। আন্দ্রে রাসেলের বলে আউট হবার আগে ২৯ বলে ২৮ রান করে নেন। অধিনায়ক মুশফিক নাঈমকে সাথে নিয়ে ২০০ রানের টার্গেটে দ্রুত পৌছে যায়। মুশফিক ১৬ ও নাঈম ৫০ রানে অপরাজিত থাকে। ৭ উইকেটের বিশাল জয় নিয়ে ৫ ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল টাইগাররা।
সকালের ব্যাটিং উইকেটে প্রথমে টসে জিতে ব্যাটিং এ নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৪৮ রান সংগ্রহ করার পর মাশরাফির প্রথম শিকারে পরিণত হয়ে প্যাভিলিয়নে সিমন্স। তবে ২১ রানেই প্রথম উইকেটটি পড়ে যেত যদি আম্পায়ার ভুল সিদ্ধান্ত না দিতেন। অভিষিক্ত আবুল হাসানের বলে ডাউন দ্যা উইকেট এসে স্লগ করতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লেগে ক্যাচ মুশফিকের হাতে। কিন্তু আম্পায়ার নাকচ করে দিলেন। আবারো জীবন পেলেন সিমন্স ৩১ রানে। মিড অনে সোহাগ গাজী ক্যাচ তালুবন্দি করতে পারেননি। পরের ওভারেই বোলিং এ নিয়ে আসা হয় অভিষিক্ত গাজী কে। বিধ্বংসী হয়ে উঠার সময় লং অফে তামিমের অসাধারণ ক্যাচে প্যাভিলিয়নে গেইল। আউট ৩৫ রানে। এক ওভার বাদেই স্যামুয়েলসকে স্পিন এর ফাদে ফেলে নিজের দ্বিতীয় উইকেট উঠিয়ে নেন। স্কোর বোর্ডে ১৩.৫ বলে সংগ্রহ ৫০। তিন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানকে আউট করে চালকের আসনে বাংলাদেশ। ব্রাভো ও কিরণ পোলার্ড ৫০ রানের জুটি করে দলকে ১০০ এর দাড়গোড়ায় এনে দিলেও রাজ্জাকের শর্ট ডেলিভারীকে পুল করে খেলতে গিয়ে শর্ট মিড উইকেটে মাশরাফির হাতে এই জুটি ভেঙ্গে যায়। ৩৩ রান উঠাতেই আরও চার উইকেট। ব্রাভো রান আউট সোহাগ গাজীর থ্রোতে, মাহমুদুল্লাহর প্রথম শিকার অধিনায়ক স্যামি, রাসেলকে বোল্ড করে দেন রাজ্জাক। আর থোমাসকে নিজের তৃতীয় উইকেটের শিকার বানান সোহাগ গাজী। ৮ উইকেটে ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ ১৩৩। তবে শেষ দিকে এসে লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যান রবি রামপল ও সুনিল নারাইন ৬৪ বলে ৫৭ রানে জুটি গড়ে কিছুটা আশা দেখালেও বাংলাদেশের বোলিং তোপে আর বেশী দূর আগাতে পারেনি। রাজ্জাকের বলে বসে সুইপ করতে গিয়ে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে রামপল ২৫ রানে আউট। তিন ওভার বাদেই সোহাগ গাজীর চতুর্থ উইকেটে পরিণত হয়ে আউট সুনিল নারাইন। ক্যরিবীয়দের পক্ষে সর্বচ্চ ৩৬ রান করেন সুনিল নারাইন। বাংলাদেশের পক্ষে সোহাগ গাজী ২৯ রানে ৪টি ও রাজ্জাক ৩৯ রানে ৩টি ও মাশরাফি ও মাহমুদুলল্লাহ ১টি করে উইকেট নেন। বাংলাদেশের অভিষিক্ত বোলারদের পৰে সোহাগ গাজী সবচেয়ে বেশী উইকেট ও ইকোনোমি নিয়ে রেকর্ড গড়েছেন। আজ ২.৯৪ রেটে বোলিং করে ২৯ রানে চার উইকেট নেন। আগের রেকর্ডটি ছিল পেসার রুবেল হোসেনের।


