বিপিএলের তৃতীয় দিনের সন্ধ্যার ম্যাচে দূড়ন্ত রাজশাহী এবং সিলেট রয়েলস মাঠে । নিজেদের প্রথম ম্যাচে দুই দলই জয় লাভ করে। টসে জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়ে দূড়ন্ত রাজশাহী ২০ ওভারে ১৪৭ রান জমা করতে পেরেছে। তবে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি দূড়ন্তের জন্যে। ইনিংসের প্রথম বলেই সাজঘরে অধিনায়ক তামিম। সোহাগ গাজীর বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে শূণ্য Sylhet_Royals_2013রানেই ফিরে যায় তামিম। গত ম্যাচেও মাত্র ১৭ রান করেছিলেন তামিম। তামিমের বিদায়ের পর আবারো পরের ওভারে আরেক ওপেনার মুক্তার আলীকে ফিরিয়ে দেন। ৯রানেই দুই উইকেট তুলে নিয়ে দূড়ন্তার স্কোর বোর্ডকে চেপে ধরে সিলেটের বোলাররা। আবরো শঙ্কা জেগে উঠে লো স্কোরিং স্কোরের। সেখান থেকে দলকে ৬৩ রানের জুটি গড়ে ১০ ওভারে ৭২ রানের স্কোর পায় দূড়ন্তরা। জহিরুল ইসলাম ও মঈন আলীর এই জুটি খেলায় ফিরায় দূড়ন্তকে। দলীয় ৭২ রানে মঈন আলী ২৪ রানে ফিরে গেলে আর কোন জুটি দলের স্কোরকে সচল রাখতে পারেনি। একপ্রান্তে আগলে খেলে জহিুরুল ৩৭ বলে অর্ধশত রান করলেও পরবর্তীতে আর কোন রান করতে পারেনি। চিগাম্বুরার বলে আউট হবার আগে ৫ চার ও ১টি ছয়ে ৫০ রান করেন। তবে জিয়াউর রহমান ১৭ বলে ২১ রান করে কিছুটা ভয়ংকর হবার আশা দেখালেও সোরওয়ার্দি শুভর অসাধারণ বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান। এরপর আর কোন খেলোয়াড় বড় কোন রান করতে পারেনি। শন আরভিন ১৫ রান করেন। ফরহাদ হোসেন ১১ রানে অপরাজিত থাকে। সিলেটের বোলাররা ব্যাটসম্যানদের বেশী রান না করতে দিলেও অতিরিক্ত ১৫ রান ঠিকই দিয়েছে। সিলেটের পক্ষে এলটন চিগাম্বুরা ৩টি এবং সোহাগ গাজী ২টি উইকেট তুলে নেয়। ১৪৮ রানের জবাবে ব্যাটিং করতে নেমেই সিলেটের গতম্যাচের টপ স্কোরার মমিনুল প্রথম ওভারের ৪ নম্বর বোল্ড হয়ে ফিরে যান। মেডেন উইকেটটি নেন ফরহাদ হোসেন। একধাপ উপরে ব্যাটিং করতে নেমে অধিনায়ক মুশফিক আরেক ওপেনার স্টারলিং এর সাথে ৩০ রানের সল্প জুটি গড়ে তুললেও দূড়ন্তের বোলারদের স্পিনে দিশেহারা হয়ে যায়। স্টারলিং নাঈম ইসলামের বলে স্টাম্পিং হয়ে ফিরে যান এবং দলীয় ৪৪ রানেই অধিনায়ক মুশফিক টাইজুল ইসলামের বলে আবুল হাসানের অসাধারণ ক্যাচে ফিরে যান। ৪৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপেই খেলতে থাকে সিলেট রয়েলস এর ব্যাটসম্যানরা। ৫১ রানেই আবারো উইকেট তুলে নেয় বোলাররা। টাইজুল ইসলাম পরের ওভারেই মোহম্মদ নাভিকে ৩ রানেই স্টাস্পিং করে ফিরিয়ে দেন। ১০ ওভারে ৫২ রান সংগ্রহ করে সিলেট এবং শেষ দশ ওভারে ৯৬ রানের বিপরীতে ব্যাটিং করে — বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে। দলীয় ৮০ রানে মাসাকাদজা বিদায় নিলে আরও শংকায় পড়ে যায় সিলেট। ৬৮ রানের বিপরীতে ব্যাটিং করে দুই ব্যাটসম্যান হাত খুলে মেরে খেলা জমিয়ে তুলে। ১৭ এবং ১৮ তম ওভারে ৩২ রান নিয়ে খেলা পুরো নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় সিলেট। শন আরভিনের করা ওভাওে ১৮ এবং জিয়াউর রহমানের ওভারে ১৪ রান নেন দুই ব্যাটম্যান। শেষ দুই ওভারে সিলেটের প্রয়োজন হয় ১৩ রানের। ব্যাটসম্যানরা দেখে শুনে খেলে ৫ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত হয় সিলেটের। ৪ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সিলেট। ১৪৮ রানের বিপরীতে দূড়ন্ত রাজশাহী ভালোই প্রতিদন্ধিতা করে। ম্যান অব দা ম্যাচ হয়েছেন এলটন চিগাম্বুরা।