বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ম্যাচ পাতানোয় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হলো মোট নয় জনের বিরুদ্ধে। আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী ও নিরাপত্তা ইউনিট বা আকসু আজ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার বিকালে আইসিসি’র প্রধান ডেভিড রিচার্ডসন এ কথা জানান। তবে চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত নয় জনের মধ্যে আশরাফুল ছাড়া অন্যদের নাম প্রকাশ করা হবে না বলে জানান তিনি। আশরাফুল আগেই তার দোষ স্বীকার করেন। ডেভিড রিচার্ডসন জানান, ‘বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে ৯ জনের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছে আকসু। এদের মধ্যে ৭জন প্রত্যক্ষভাবে জড়িত এবং ২জন পরোক্ষভাবে সহায়তা প্রদান করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পাওয়া বা জানা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষকে না জানানোর। ’ খেলোয়াড় ছাড়াও সংগঠকদের নাম রিপোর্টে রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ডেভিড রিচার্ডসন। অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করার বিষয়ে আইসিসির এই কর্মকর্তা জানান,‘ বিসিবির দুর্নীতি বিরোধী কোড অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার আগ পর্যন্ত অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’ অভিযুক্তদের শাস্তির বিষয়ে রিচার্ডসন জানান, বিসিবির নীতিমালার অনুচ্ছেদ ৬ অনুযায়ী প্রতক্ষ্যভাবে শাস্তির অভিযোগ ৫ বছর থেকে আজীবন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। এছাড়া পরোক্ষভাবে যাদের বিপক্ষে অভিযোগ উঠেছে, প্রমাণিত হলে তারাও ১ থেকে ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারেন।’ ডেভিড রিচার্ডসন অভিযুক্তদের সাজা দেবার বিষয়ে জানান, ক্রিকেট বোর্ড একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করবে। সে ট্রাইব্যুালই অভিযুক্তদের সাজা দেবে। দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের নাম এবং লেনদেনকৃত অর্থের পরিমাণ জানানো হবে না। তবে অভিযুক্তরা আত্মপক্ষ সমর্থনের পর আইনি লড়াই অথবা অভিযোগ স্বীকার করার জন্যে ১৪ দিনের সময় পাবেন। ” আশরাফুলের শাস্তি কমানোর বিষয়ে আইসিসি বিসিবিকে কোনও সুপারিশ করবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ডেডিভ রিচার্ডসন বলেন, বিষয়টি পুরোপুরিই বিসিবি’র তদন্ত ট্রাইব্যুনালের ওপর নির্ভর করছে। এ বিষয়ে তারাই সিদ্ধান্ত দেবেন। বিসিবির সিদ্ধান্ত আইসিসি গ্রহণ করবে।’ এদিকে সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি প্রেসিডেন্ট পাপন জানিয়েছেন, দু-এক দিনের মধ্যেই বিসিবি’র তদন্ত ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।