ঢাকা টেস্টে চালকের আসনে রয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টাইগারদের লিড ১১৪ রান। চতুর্থ দিন শেষে ৩ উইকেটের বিনিময়ে ২৬৯ রান স্কোরবোর্ডে জমা করে বাংলাদেশ। ১২৬ রানে মমিনুল ও ৩২ রানে সাকিব সিরিজ নির্ধারণী ঢাকা টেস্টের পঞ্চম দিন শুরু করবেন। চতুর্থ উইকেটে এই দুই ব্যাটসম্যান ৫৭ রান যোগ করেন। চতুর্থ দিনের পুরো সময়টাই বাংলাদেশের। সকালে বল হাতে মাত্র ৭.২ বলে দুই কিউই ব্যাটসম্যানকে বিদায় করেন বোলাররা। ১৫৫ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে বাংলাদেশ। তৃতীয় উইকেট মমিনুল ও তামিম ইকবালের ১৫৭ রানের জুটি বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। এর আগে ৫৫ রান তুলতেই এনামুল হক (২২) ও মার্শাল আইয়ুব (৯)কে হারায় স্বাগতিকরা। টাইগারদের দুই উইকেট তুলে নিয়ে ওয়াগনার কিছুটা চাপ তৈরী করলেও সেই চাপ সামলে নেন তামিম-মমিনুল। চট্টগ্রাম টেস্টে অভিষেক শতক হাঁকানোর পর ঢাকা টেস্টেও শতক তুলে নেন মমিমুল ইসলাম। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতক হাঁকাতে মমিনুল ১৬৯ বল মোকাবেলা করেন। ১৩টি চারের সাহায্যে ইনিংসটি সাজান তিনি। ক্রিজে ছিলেন ২২৯ মিনিট। চট্টগ্রামে প্রথম টেস্টে তার ইনিংসটি ছিল ১৮১ রানের। মমিনুল শতক পেলেও প্রথম ইনিংসে ৫ রানের জন্যে শতক বঞ্চিত হওয়া তামিমের দ্বিতীয় ইনিংস থেমে যায় ৭০ রানে। ২১৮ বলে সাজানো ইনিংসটিকে থামান কেন উইলিয়ামসন। স্লিপে টেইলরের তালুবন্দি হন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে দলীয় ৩৯ রানে ফিরে যান এনামুল। ২২ রানে নিল ওয়াগনারের বলে দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা ফুলটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরত যান এনামুল। চট্টগ্রাম টেস্টের দুই ইনিংসে ৩ ও ১৮ রানের পর ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৭ রান করেন এনামুল। দ্বিতীয় ইনিংসে টেস্টের সর্বোচ্চ ২২ রান করলেন তিনি। ২৬ বলে ৪টি চারে ২২ রান করেন তিনি। এরপর মার্শাল আইয়ুব ১৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে প্রথম ম্লিপে টেইলরের হাতে ক্যাচ দেন। ২১ মিনিট ক্রিজে থেকে ১৩ বল মোকাবেলা করে ৯ রানে সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে। চতুর্থ দিনের শুরুতে মাত্র ৭.২ ওভার বোলিং করে নিউজিল্যান্ডের অবশিষ্ট ২ উইকেট তুলে নেয় টাইগাররা। ৪১৯ রানে তৃতীয় দিন শেষ করা নিউজিল্যান্ড চতুর্থ দিনে ১৮ রান যোগ করতেই দুই উইকেট হারায়। দিনের শুরুতে মমিনুল হকের থ্রোতে রান আউটের শিকার হয়ে ইশ শোধী। তৃতীয় দিন শেষে ৫৫ রানের অপরাজিত থাকা এই কিউই ৩ রান যোগ করতেই রান আউটের শিকার হন। এরপর রাজ্জাক আর্ম বলে ট্রেন্ড বোল্টকে এলডাব্লিউর ফাঁদে ফেলেন। ৪ রানে বিদায় নেন বোল্ট। ক্রিজের অপরপ্রান্তে থাকা ওয়াটলিং ৭০ রানে অপরাজিত থাকেন। ১৭৯ বলে ৭০ রানের সাজানো ইনিংসটিতে ছিলো ৪টি চারের মার। বাংলাদেশ সব উইকেট হারিয়ে প্রথম ইনিংসে ২৮২ রান সংগ্রহ করে। ৯৫ রানের ইনিংস খেলেন ওপেনার তামিম ইকবাল। অতিথীদের হয়ে নিল ওয়াগনার নেন ৫ উইকেট। জবাবে তৃতীয় দিন শেষে নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে ৪১৯ রান সংগ্রহ করে। নিউজিল্যান্ডের হয়ে কোরি এন্ডারসন ১১৬ রানের ইনিংস খেলেন। এছাড়া বাংলাদেশের হয়ে সাকিব আল হাসান ৫টি এবং রাজ্জাক ২টি উইকেট নেন। ১টি করে উইকেট নেন নাসির হোসেন ও আল-আমিন হোসেন।