রুবেল হোসেনের বোলিং নৈপুণ্যে বৃষ্টিবিঘ্নি
ত ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৪৩ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। ক্যারিয়ারের প্রথমবারের মতো হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ উইকেট নেবার স্বাদও এই পেসার। নিউজিল্যান্ড শিবিরে ধস নামিয়ে দেয়া রুবেল ২৬ রানের খরচে ৬ উইকেট তুলে নেন। বাংলাদেশের দেয়া ২৬৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে নিউজিল্যান্ড ৩ উইকেট হারিয়ে ৮২ রান সংগ্রহ করে। এরপর বৃষ্টির বাগড়ায় ম্যাচ ৩৩ ওভারে নামিয়ে নিয়ে আসা হয়। ৩৩ ওভারে নিউজিল্যান্ডের নতুন লক্ষ্য ২০৬ রান। নতুন টার্গেটে ব্যাটিং করতে নেমে ৯ উইকেট হারিয়ে নিউজিল্যান্ড ১৬০ রানে থেমে যায়। ফিল্ডিংয়ের সময়ে আঙ্গুলে ব্যাথা পাওয়ায় কেন উইলিয়ামসনের মাঠে নামতে পারেনি। এলিয়টকে ৭১ রানে ফিরিয়ে দিয়ে রুবেল ষষ্ঠ উইকেট লাভ করেন। এর আগে ক্যারিয়ারের প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট নেবার স্বাদ পান পেসার রুবেল। ২৮তম ওভারে নাথান ম্যাককালামকে (১০) রানে ফিরিয়ে দিয়ে ৫ উইকেট নেবার কৃতিত্ব দেখান রুবেল।এর আগে ২৪তম ওভারে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো হ্যাটট্রিক লাভ করেন। পর পর তিন বলে কোরি এন্ডারসন, ব্রনডান ম্যাককালাম ও জেমস নিসামের উইকেট তুলে নেন এই পেসার। বৃষ্টির পর আক্রমণাত্মক কোরি এন্ডারসনকে ৪৬ রানে সাজঘরে ফেরত পাঠান রুবেল। এরপর নতুন ব্যাটসম্যান ম্যাককালামকে রানের খাতা খুলতে দেবার আগে পয়েন্টে শামসুর রহমানের হাতে তালুবন্দি করিয়ে উইকেট তুলে নেন। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়ে তৃতীয় বলে মুশফিকের অসাধারণ ক্যাচে জেমস নিসামেরও উইকেট তুলে নেন। তৃতীয় বাংলাদেশী হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক তুলে নিলেন রুবেল। এর আগে ২০১০ সালে স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক ও ২০০৬ সালে পেসার শাহাদাত হোসেন হ্যাটট্রিক লাভ করেন। এই দুই বোলারই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক লাভ করেন। এর আগে ইনিংসের শুরুতে স্কোরবোর্ডে ৯ রান যোগ হতেই গাজীর ঘূর্ণিতে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরে যান রাদারফোর্ড। দ্বিতীয় উইকেটে অনটন ডেভিচ ও গ্রান্ট ইলিয়ট ৩৪ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিত ধাক্কাকে সামলে নেন। এই জুটিকে ভাঙ্গেন মাহমুদুল্লাহ। ডেভিচকে ২২ রানে সরাসরি বোল্ড করে ফিরান সহ অধিনায়ক। এরপর টেইলরকে ফিরিয়ে ক্যারিয়ারের ৫০তম উইকেট শিকার করলেন পেসার রুবেল হোসেন। টেইলর ৮ রান যোগ করে উইকেটের পিছনে মুশফিকের হাতে তালুবন্দি হন। অধিনায়ক মুশফিকের ৯০ ও নাঈম ইসলামের ৮৪ রানের উপর ভর করে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৬৫ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ।২৬৫ রানে থামলো বাংলাদেশ। অধিনায়ক মুশফিকের ৯০ আর নাঈম ইসলামের ৮৪ রানের উপর ভর করে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সব উইকেট হারিয়ে তাদের এই স্কোর। জয়ের জন্যে নিউজিল্যান্ডের প্রয়োজন ২৬৬ রান। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর। ২০১০ সালের ১৪ অক্টোবর সাকিবের শতকের বদৌলতে বাংলাদেশ ২৪১ রানের স্কোর পায়। ইনিংসের শুরুতে দলীয় ১৩ রানে টিম সাউদির বলে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফিরে যান দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল (৫)।স্কোরবোর্ডে ৪ রান যোগ হতেই টেস্ট সিরিজের সেরা মুমিনুল রান আউটের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। আনামুলের সাথে ভুলবুঝাবুঝিতে এক বল না খেলেই ফিরতে হয় মুমিনুলকে। এরপর টেস্ট সিরিজের ধারাবাহিক ব্যর্থ আনামুল ওয়ানডেতে শুরুটা ভালো করলেও বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেন নি।টিম সাউদির দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি। ব্যক্তিগত ১৩ রানে স্পিলে নাথান ম্যাকাকালামের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরন আনামুল।চতুর্থ উইকেটে ঘুরে দাঁড়ান টাইগাররা। মুশফিকুর রহিম ও নাঈম ইসলাম চতুর্থ উইকেটে ১৫৪ রানের জুটি গড়েন। ক্যারিয়ারের দ্বাদশ অর্ধশতক হাঁকিয়ে শতক ছুঁতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত পেসার নিসাম থামিয়ে দেয় তাকে।ইনিংসের ৩৭তম ওভারের তৃতীয় বলে মুশফিক উইকেটের পেছনে তালুবন্দি করান নিসাম। একই ওভারের শেষ বলে নাসিরকে বোল্ড করেন এই পেসার। ৯৮ বলে ৮টি চার ও ২টি ছয়ে মুশফিক তাঁর ইনিংসটি সাজান।প্রায় দুই বছর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক শতক পেয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। সেবার চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১০১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। মুশফিকুর রহিমের পর নাঈম ইসলামও শতক বঞ্চিত হন। টেস্ট সিরিজে স্কোয়াডে থেকেও প্রথম একাদশে জায়গা না পাওয়া এই অলরাউন্ডার ৮৪ রানে টিম সাউদির তৃতীয় শিকার।৪৫তম ওভারের পঞ্চম বলে ব্রেনডান ম্যাককালামের হাতে ক্যাচ দেন নাঈম। ১১৫ বলে ১২ চারে নাঈম তার ইনিংসটি সাজান। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের চতুর্থ অর্ধশতক।দলীয় ২৪১ রানে নাঈমের বিদায়ের পর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ২৯ রানের ইনিংস বাংলাদেশকে স্কোরকে সমৃদ্ধ করে।শেষ দিকে রাজ্জাক ১২ রান করে কোরি এন্ডারসনের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন। রুবেল ৩ রানে অপরাজিত থাকেন।নিউজিল্যান্ডের হয়ে জেমস নিসাম ৪টি ও টিম সাউদি ৩টি ও কোরি এন্ডারসন ২টি উইকেট নেন।