ফের ধবল ধোলাই ফের উচ্ছ্বাস। ফের নিউজিল্যান্ডকে দুমড়ে মুচড়ে ‘বাংলা-ওয়াশ’। ২০১০ সালের সেই ঐতিহাসিক অক্টোবরের পর এবার বাংলাদেশের খাতায় নতুন করে যুক্ত হলো ২০১৩ সালের নভেম্বর মাস। নারায়ানগঞ্জের খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতে নিলো বাংলাদেশ। ২০১০ সালে সাকিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ৪-০ ব্যবধানে ধবল ধোলাই হয় কিউইরা। এ জয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা ৭ম জয়ের রেকর্ডও গড়লো বাংলাদেশ। টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে নিউজিল্যান্ড টেইলরের অপরাজিত ১০৭ রানের ইনিংসের উপর ভর করে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩০৭ রান সংগ্রহ করে। জবাবে বাংলাদেশ ৪ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখে জয় ছিনিয়ে আনে। শামসুর রহমানের ৯৬ ও নাঈম ইসলামের ৬৩ রানের ইনিংস বাংলাদেশের জয়ের পথকে মসৃণ করে তোলে। শেষ দিকে মিস্টার ফিনিসার খ্যাত নাসিরের ৪৪ রানের ইনিংসও ছিলো বেশ কার্যকর। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের শুরুতে মাত্র ৭.১ বলে ৬১ রানের জুটি গড়েন জিয়াউর রহমান ও শামসুর রহমান। মিচেল ম্যাকগিলেন ব্যাক্তিগত প্রথম ওভারে নিউজিল্যান্ডকে সাফল্য এনে দেন। জিয়াউর রহমানকে ২২ রানে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে প্রথম আঘাত করেন তিনি। ২ চার ও ২ ছয়ে সাজানো ইনিংসটি খেলতে জিয়া ২০ বল মোকাবেলা করেন। দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুলকে সঙ্গে নিয়ে ৬৫ রানের জুটি গড়েন শামসুর রহমান। দলীয় ১২৬ রানে মুমিনুলকে ফিরিয়ে দেন পার্ট টাইম বোলার অন্থন ভেভিচ। ৩২ রান করে মুমিনুল ডেভিচের হাতে ফিরতি ক্যাচ গিয়ে সাজঘরে ফিরে আসেন। দলীয় ১২৬ রানে মুমিনুল ফিরে যাবার পর ৩ রান যোগ হতেই নিজের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম (২)। শর্ট লেগে রস টেইলরের অসাধারণ ক্যাচের শিকার মুশফিক। ক্যারিয়ারের প্রথম শতক হাঁকানোর পথে এগুতে থাকা শামসুর এরপর ৯৬ রানে বিদায় নেন। শতকের থেকে ৪ রান দূরে থেকে কোরি এন্ডারসনের বলে ফিরতে হয় তাকে। দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমেই শতকের পথে হাঁটছিলেন ঢাকার এই ব্যাটসম্যান। এজন্য ১০৭টি বল মোকাবেলা করে ৯৬ রান করেন তিনি। ইনিংসটি ছিলো ৬ টি চার ও ৪ টি ছয়ে সাজানো। শামসুর রহমানের পর নাঈম ইসলাও ৫২ বলে অর্ধশতক তুলে নেন। জয়ের বন্দর থেকে ৫৪ রান দূরে থাকা অবস্থায় নাঈম ব্যাক্তিগত ৬৩ রানে রান আউট হয়ে ফিরে আসেন। ৭৪ বলে ৫ চারে নাঈম তাঁর ইনিংসটি সাজান। জয়ের বন্দরে নিয়ে যাবার বাকি কাজটুকু সারেন নাসির হোসেন। ৪৪ রানে অপরাজিত থেকে নিউজিল্যান্ডকে দ্বিতীয়বার ধবলধোলাইয়ের স্বাদ দেন নাসির। তাঁর সাথে ১১ রানে অপরাজিত থাকেন সোহাগ গাজী। এর আগে রস টেইলরের শতকের উপর ভর করে বাংলাদেশকে জয়ের জন্যে ৩০৮ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দিলো নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার তৃতীয় একদিনের ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে নিউজিল্যান্ড ৫ উইকেট হারিয়ে ৩০৭ রান সংগ্রহ করেছে। নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইট ওয়াশ করতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ৩০৮ রান। নারায়ানগঞ্জের খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে দুই দল নিজেদের ২৪তম ম্যাচে মুখোমুখি হয়। তিন ম্যাচ সিরিজ ইতিমধ্যেই জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের শুরুটা ভালো করে দেন দুই ওপেনার ডেভিচ ও লাথাম। এই দুই ব্যাটসম্যান উদ্ধোধনী জুটিতে ৬৬ রান যোগ করেন। দলীয় ৬৬ রানে কিউই শিবিরে প্রথম আঘাত আনেন সহ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ক্রমশ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠা ডেভিচকে ৪৬ রানে সাজঘরে পাঠান রিয়াদ। ৩৮ বলে ৮ চারে ৪৬ রান করেন বাহাতি ডেভিচ। এরপর স্পিনার রাজ্জাক অ্যাটাকে এসেই এলিয়টকে ফেরত পাঠান। মাত্র ৩ রানে সার্কেলের ভিতরে সোহাগের হাতে তালুবন্দি হন এলিয়ট। উইকেটের অপর প্রান্তে থাকা লাথাম মুশফিকের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাড়ালেও পেসার রুবেল তা কমিয়ে দেন। ২২তম ওভারের প্রথম বলে লাথামকে (৪৩) দলীয় ১০১ রানে উইকেটের পিছনে মুশফিকের হাতে তালুবন্দি করিয়ে সাজঘরে ফেরত পাঠান রুবেল। দলীয় ১০১ রানে তৃতীয় উইকেট পতনের পর চতুর্থ উইকেটে ঘুরে দাঁড়ায় অতিথীরা। টেইলর ও মুর্নো ১৩০ রানের জুটি গড়ে নিউজিল্যান্ডের রানের চাকাকে সচল রাখেন। নিজের চতুর্থ ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে নামা মুর্নো ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অর্ধশতক হাঁকিয়ে দলীয় ২৩১ রানে আউট হন। বাংলাদেশকে রানের চাপে ফেলা এই জুটি ভাঙ্গেন সহ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ৭৭ বলে ৭ চার ও ২ ছয়ে ৮৫ রানের ইনিংস খেলেন মুর্নো। স্কোরবোর্ডে ১ রান যোগ হতেই সোহাগ গাজী বলে সাজঘরে ফিরে যান কোরি এন্ডারসনকে (১)। একপ্রান্তে অতিথীরা উইকেট হারালেও অপর প্রান্তে থাকা টেইলর নিজের স্বভাবসুলভ খেলে ক্যারিয়ারের সপ্তম শতক তুলে নেন। বাংলাদেশের সাথে এটি তাঁর দ্বিতীয় শতক। এর আগে ২০০৮ সালের ১৪ অক্টোবর চট্টগ্রামের মাটিতে ১০৩ রান করেন টেইলর। আজকের ম্যাচে টেইলর শতক হাঁকিয়ে ১০৭ রানে অপরাজিত থাকেন। এজন্য ৯টি চার ও ৩টি ছয় হাঁকান তিনি। টেইলরের সাথে ১৩ রানে অপরাজিত থাকে লুক রঞ্চি। বাংলাদেশের হয়ে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৩৬ রানে ২ উইকেট নেন। এছাড়া ১টি করে উইকেট নেন রুবেল হোসেন,সোহাগ গাজী ও আব্দর রাজ্জাক। আরেক পেসার মাশরাফি আজ ৮ ওভারের বোলিংয়ে ৭৩ রান খরচ করেন। পেটে ব্যাথা থাকার কারণে ম্যাচে খেলতে পারছেন না ওপেনার তামিম ইকবাল। তার পরিবর্তে জায়গা পেয়েছে অলরাউন্ডার জিয়াউর রহমান। এছাড়া নিউজিল্যান্ড দলে চারটি পরিবর্তন হয়েছে। পিঠে ব্যথার কারণে খেরতে পারছে না অধিনায়ক ব্রেনডান ম্যাককালাম। এছাড়া দলের বাইরে গেছেন নিসাম, সাউদি, রাদারফোড। তাদের চারজনের পরিবর্তে জায়গা পেয়েছে মিলনে, মুনো, রঞ্চি ও ম্যাকলিগান।



