জয় দিয়ে এশিয়া কাপে যাত্রা শুরু করলো শ্রীলঙ্কা। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানকে ১২ রানে হারিয়ে সিংহের দল। ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কা টসে জিতে ব্যাটিং করতে নেমে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৯৬ রান সংগ্রহ করে। জবাবে পাকিস্তান সব উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রানে আটকে যায়। ২৯৭ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় পাকিস্তান। ২৮ রানে শারজিল খান ফিরে যাবার পর দ্বিতীয় উইকেটে আহমেদ শেহজাদ ও হাফিজ দলকে ৭৭ রান পর্যন্ত টেনে নেন। এরপর ৬ রানের ব্যবধানে সাজঘরে ফিরেন শেহজাদ (২৮) ও হাফিজ (১৮)। ৮৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে পাকরা। এরপর মিসবাহ এবং মাকসুদ মিলে কিছুটা চাপ সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ১২১ রানে মাকসুদ(১৭) সুচিত্রা সেনানায়েকের বলে ফিরে যান। পঞ্চম উইকেটে ম্যাচে ফিরে পাকিস্তান। অধিনায়ক মিসবাহ ও উমর আকমাল ১১৪ বলে ১২১ রান তুলে নেন। কিন্তু দলীয় ২৪২ রানে ৭৪ রান করা উমর আকমাল পেসার লাকমালের বলে ফিরে যাবার পর বিপদে পড়ে পাকিস্তান। দ্রুত সময়ে সাজঘরে ফিরে যান মিসবাহ-উল-হক (৭৩), শহীদ আফিদ্রী (৪), উমর গুল (২), সাঈদ আজমল (১০) ও বিলাওয়াল ভাট্টি (১৮)। শ্রীলঙ্কার হয়ে পেসার লাসিথ মালিঙ্কা একাই পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডার গুড়িয়ে দেন। ৫২ রানে ৫ উইকেট নেন তিনি। এছাড়া লাকমাল ২টি এবং ম্যাথুস ও সেনানায়েকে ১টি করে উইকেট নেন। এর আগে লাহিরু থ্রিমান্নের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতক, কুমার সাঙ্গাকারা ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের অর্ধশতকে ভর করে ২৯৬ রানের বড় এক সংগ্রহ দাঁড় করে শ্রীলঙ্কা। দরুণ এক সূচনার পর শেষ দিকে এসে খেই হারায় শ্রীলঙ্কা। ৩৫ ওভারে ২০৩ রান করা শ্রীলঙ্কা শেষ ১৫ ওভারে মাত্র ৯৩ রান জমা করে। বিপরীতে উইকেট হারায় ৪টি। শুরুটা করেন থ্রিমান্নে। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতক তুলে নিয়ে ১০২ রানে বিদায় হন সাঈদ আজমলের বলে বোল্ড হয়ে। এ রান করতে ১১টি চার ও ১টি ছয় হাকান বাহাতি এই ব্যাটসম্যান। থ্রিমান্নে ক্যারিয়ারের প্রথম শতকের দেখা পান এই বছরই। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাডিলেডে ১০২ রান করেন তিনি। দ্বিতীয় উইকেটে থ্রিমান্নে ও সাঙ্গাকারা ১৬১ রানের জুটি গড়েন। অবশ্য এই জুটি ভাঙ্গে ৩২তম ওভারে। সাঙ্গাকারাকে ৬৭ রানে ফিরান উমর গুল। ক্যাচটি ধরেন আহমেদ শেহজাদ। থ্রিমান্নের বিদায়ের পর দ্রুত সাজঘরের পথ ধরেন মাহেলা জয়াবর্ধনে (১৩), থিসারা পারেরা (৬) ও অভিষিক্ত চাতুরাঙ্গা ডি সিলভা (২)। শেষ দিকে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস ও দিনেশ চান্দিমাল অবিচ্ছিন্ন ৪৫ রানের জুটি গড়ে দলের স্কোরকে ২৯৬ রান পর্যন্ত নিয়ে যান। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস ৫৫ ও দিনেশ চান্দিমাল ১৯ রানের অপরাজিত থাকেন। পাকিস্তানির বোলারদের হয়ে শহীদ আফ্রিদী ও উমর গুল ২টি করে উইকেট নেন। ১টি উইকেট নেন সাঈদ আজমল। উল্লেখ্য, ২০১২ সালে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তান। সেবার ফাইনালে বাংলাদেশকে ২ রানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপার স্বাদ নেয় পাকিস্তান।