টেস্ট খেলেড়ু কোন দেশের সাথে জয় নেই
ওয়ানডে ক্রিকেটের নবীনতম সদস্য আফগানিস্তানের । বাংলাদেশকে এশিয়া কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে ৩২ রানে হারিয়েছে তারা। ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ২৫৪ রান জমা করে। জবাবে বাংলাদেশ ২২২ রানে আটকে ৩২ রানে পরাজয়ের স্বাদ গ্রহণ করে। এ পরাজয়ে এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে গেল স্বাগতিক বাংলাদেশ। ২৫৫ রান তাড়া করতে নেমে ইনিংসের পঞ্চম বলে প্রথম উইকেট হারালো বাংলাদেশ। শাপুর জারদানের বলে সরাসরি বোল্ড হন শুভ। পরের ওভারেই টাইগার শিবিরে আবারো আঘাত করেন আফগানরা। এবার বোলার হামিদ হাসান। আনামুল হক বিজয়কে এলবিডাব্লিউ’র ফাঁদে ফেলেন ডান হাতি এই পেসার। তৃতীয় উইকেটে মুশফিক ও মুমিনুল দলকে ৬৯ রান পর্যন্ত টেনে নেন। এরপর আম্পায়ারের বিতর্কিত এক সিদ্ধান্তে মুশফিক সাজঘরে ফিরে যান। মোহাম্মদ নবীর বেরিয়ে যাওয়া বল মুশফিকের পায়ে লাগলে মুশফিককে সাজঘরে ফিরতে হয়। বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি অর্ধশতক হাকানো মুমিনুলও। অর্ধশতক হাকানোর পরই সামিউল্লান সানওয়ারির বলে সরাসরি বোল্ড হন তিনি। ৭২ বলে ৬ বাউন্ডারি হাকান মুমিনুল। পঞ্চম উইকেটে দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন নাসির ও নাঈম। ৯৭ বলে ৭৩ রান যোগ করেন তারা। এরপর ব্যাটিং পাওয়ার প্লে নিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ৩৫ ওভার থেকে ৪০ ওভার পর্যন্ত যেতেই ৩৬ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। আউট হন নাসির হোসেন (৪১), নাঈম ইসলাম (৩৫) ও আব্দুর রাজ্জক (০)। এরপর ক্রিজে এসে বাংলাদেশকে জয়ের সম্ভাবনা দেখান জিয়াউর রহমান। ২২ বলে চারটি বাউন্ডারিও ও ৩টি ছক্কায় ৪১ রান তুলে রানের চাকা সচল রাখেন। কিন্তু অধিনায়ক মোহাম্মদ নবীর স্পিন ঘূর্ণিতে সেটাও সম্ভব হয়নি। সরাসরি বোল্ড হন নবীর বলে। এরপর আফগানদের প্রথম জয়ের অপেক্ষা। অপেক্ষায় রাখেনি নবী। রুবেলকে আউট করে মুশফিকদের ৩২ রানের পরাজয়ের লজ্জা দেয় তারা। এর আগে শুরুটা ছিল বাংলাদেশের। শেষটা করে দেখাল আফগানরা। টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে ৯০ রানে ৫ উইকেট নেই আফগানদের। এরপর ঘুরে দাড়ায় আফগানিস্তান। আর ঘুরে দাড়ানোর গল্প রচনা করেন সামিউল্লাহ সানওয়ারি ও আসগর স্টানিকজাই। ষষ্ঠ উইকেটে শুধু ১৬৪ রানের জুটি গড়েনি তারা; আফগানিস্তানকে ২৫৪ রানের পুঁজি পাইয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ের স্বপ্নও দেখাচ্ছে। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত সামিউল্লাহ সানওয়ারি ৮১ ও আসগর স্টানিকজাই ৯০ রান করেন। দুজনেরই ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস এটি। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত খেলে ১০৩ বলে স্টানিকজাই ৯০ রানে অপরাজিত থাকেন। ৪টি বাউন্ডারি ও ৩টি ছয়ে এ রান করেন তিনি। এছাড়া ইনিংসের শেষ ওভারে সামিউল্লাহ রান আউটের শিকার হন। ৬৯ বলে ঝড়ো ৮১ রান করেন তিনি। এ রান করতে ১০টি চার ও ১টি ছয় হাকান। এর আগে টাইগার স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শততরানের আগেই ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে আফগানিস্তান। টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ৯০ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারিয়েছে তারা। প্রথম আঘাত করেন রুবেল হোসেন। দলীয় ৬ রানে রুবেল হোসেনের দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে উইকেট হারায় আফগানিস্তান। এলবিডাব্লিউর শিকার হন আহমেদ শাহজাদ (২)। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে নাজিবুল্লাহ জারদান ও করিম সাদিক দলকে ৪০ রান পর্যন্ত টেনে নেন। ৩৪ রান যোগ করেন এই দুই ব্যাটসম্যান। কিন্তু ১২তম ওভারে আরাফাত সানীর বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন করিম সাদিক । ৩৬ বলে ১ ছয়ে ১২ রান করেন এই ডান হাতি ব্যাটসম্যান । এক ওভার পর আবার বোলিংয়ে এসে নাজিবুল্লাহ জারদানকে সরাসরি বোল্ড করেন সানী। ২১ রান আসে তার ব্যাট থেকে। চতুর্থ উইকেটে ঘুরে দাড়ানোর চেস্টা করে সফরকারীরা। কিন্তু নাঈম ইসলামের নিঁখুত থ্রোতে উইকেট হারায় নওরাজ মঙ্গল। ৩৩ বলে ৩ চারে ২৪ রান করেন নওরাজ মঙ্গল। এরপর মুমিনুল হক ফিরান মোহাম্মদ নবীকে। অধিনায়ক মোহাম্মদ নবীকে ৭ রানে ফিরান বাহাতি এই স্পিনার। স্লিপে ক্যাচটি ধরেন নাসির হোসেন। ইনজুরির শঙ্কা কাটিয়ে বাংলাদেশ দলকে কাল নেতৃত্ব দেন মুশফিকুর রহিম।