শেষটাতেও হলো না। জয়হীন থেকেই বিশ্বকাপের আসর শেষ করলো বাংলাদেশ। মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৭ উইকেটে পরাজিত হয় টাইগাররা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশ ৫ উইকেট ১৫৩ রান সংগ্রহ করে। জবাবে অস্ট্রেলিয়া ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫ বল আগেই জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে। ১৫৪ রানের সহজ টার্গেট তাড়া করতে নেমে ওয়ার্নার ও ফিঞ্চ ৯৮ রানের জুটি গড়ে জয়ের ভিত গড়ে দেন। ওয়ার্নার ৪৭ রানে আল-আমিনের শিকার হলেও ফিঞ্চ অর্ধশতক তুলে নেন। অবশ্য ৭১ রানে তার ইনিংসটিও থামিয়ে দেন আল-আমিন। অসি শিবিরের শেষ উইকেটটি নেন অভিষিক্ত পেসার তাসকিন আহমেদ। ম্যাক্সওয়েলকে সরাসরি বোল্ড করেন তাসকিন। এর আগে ব্যাটিংয়ের শুরুতেই ১২ রানে দুই ওপেনার সাজঘরে ফিরেন। ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দেয়া তামিম আজও নিজেকে মেলে ধরতে পারেনি। রানের খোঁজে থাকা তামিমের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৫ রান। অন্যদিকে টুর্নামেন্টে ধারবাহিক থাকা আনামুল আজ তামিমের সাথে যোগ দিয়ে রানের খাতাই খুলেনি। এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে নেন সাকিব ও অধিনায়ক মুশফিক। ৭৮ বলে সাকিব-মুশফিক ১১২ রানের জুটি গড়েন। যা তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। আগের রেকর্ড ছিল ১০৯ রানের। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এ রান করেছিলেন আফতাব আহমেদ ও মোহাম্মদ আশরাফুল। সাকিব এবারের বিশ্বকাপে একামাত্র বাংলাদেশি ক্রিকেটার হয়ে অর্ধশতক হাকিয়ে ৬৬ রানে থামেন। ৫২ বলে ৫ চার ও ৩ ছয়ে এ রান করেন বাহাতি সাকিব। এছাড়া মুশফিক ৩৬ বলে ৫ ছয় ও ১ চারে তুলে নেন ৪৭ রান। পঞ্চম উইকেটে নাসির হোসেন (১৪) ও মাহমুদুল্লাহর (৬) ১৫ বলে ২০ রানের জুটিতে ১৫৩ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। অন্যদিকে একই মাঠে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ডু অর ডাই ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিং করতে নেমে ৬ উইকেটে ১৬৬ রান সংগ্রহ করে। জবাবে পাকিস্তান ৮২ রানে আটকে ৮৪ রানে পরাজিত হয়। ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানি বোলারদের তোপে ৮১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেখান থেকে দলকে টেনে তুলেন ডোয়াইন ব্রাভো এবং ড্র্যারেন স্যামি। মাত্র ৩২ বলে ৭১ রান যোগ করেন এই দুই তারকা। শেষ ৫ ওভারে ৮২ রান তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্রাভো ২৬ বলে ৪ ছয়ে ও ২ চারে ৪৬ ও স্যামি ২০ বলে ৫ চার ও ২ ছয়ে ৪২ রান করেন। টি-টোয়েন্টিতে ১৬৭ রান খুব বড় একটি টার্গেট না। তবুও টার্গেকে পাহাড় সমান করে তুলেন পাকিস্তানকে। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৩ রান তুলতেই টপ অর্ডারের ৪ ব্যাটসম্যান সাজঘরে। টপ অর্ডারদের ব্যার্থতার পর আর ঘুরে দাড়াতে পারেনি দ্বিতীয় আসরের চ্যাম্পিয়নরা। মাত্র ৮২ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। পাকিস্তান শিবিরে আঘাত করেন বাদ্রি ও নারিন। বাদ্রি মাত্র ১০ রানে ৩টি এবং নারিন ১৬ রানে ৩ উইকেট নেন। পাকিস্তানের হয়ে আফ্রিদী এবং শোয়েব মাকসুদ ১৮ রান করে করেন। ম্যাচ সেরা হন ডোয়াইন ব্রাভো।