বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতকে হারাল বাংলাদেশ

লিখেছেন প্রকাশিত হয়েছে মার্চ 17, 2012

শচীনের ইতিহাস গড়ার দিনে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতকে হারিয়ে দিল বাংলাদেশ। গতকাল এশিয়া কাপের চার নম্বর ম্যাচে তামিম-নাসির-জহিরুল-সাকিব ও মুশফিকরা মিলে এক অসাধারণ জয় উপহার দিয়েছে বাংলাদেশকে। দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো জয় এটি। জয়ের জন্য ভারতের দেয়া ২৯০ রানের বিশাল টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৫ উইকেট ও ৪ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। ৪৯.২ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ২৯৩ রান। আগে ব্যাট করতে নেমে পাঁচ উইকেটে ২৮৯ রান করে ভারত। এ জয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠার আশা জাগিয়ে রাখল বাংলাদেশ। নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারলে এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলতে পারে মুশফিকরা। অন্যদিকে কাল পাকিস্তানের কাছে হারলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেবে ভারত। এরই মধ্যে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান।
ভারতের বিপক্ষে ২৯০ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। পঞ্চম ওভারেই প্রবীন কুমারের বলে শর্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন ওপেনার নাজিমুদ্দিন (৫)। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ১১৩ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামলে বেশ ভালোভাবেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল ও জহুরুল ইসলাম। কিন্তু দলীয় ১২৮ রানের মাথায় রবীন্দ্র জাদেজার বলে শর্মার হাতেই ক্যাচ দেন জহিরুল। তবে তার আগে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। ৪টি চার ও একটি ছক্কার মেরে জহিরুল আউট হন ৫৩ রান করে। তারপর খুব বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি তামিমও। তবে তার ব্যাট থেকে আসে ৬টি চারে ৭০ রানের এক ঝলমলে ইনিংস। প্রবীন কুমারের বলে জাদেজার হাতে ক্যাচ দিয়ে তামিম আউট হলে চতুর্থ উইকেটে ৬৮ রানের জুটি গড়ে জয়ের পথে বাংলাদেশকে আরও কিছুটা এগিয়ে দেন সাকিব ও নাসির। কিন্তু ব্যক্তিগত ৪৯ রানের মাথায় থার্ড আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বলি হয়ে সাজঘরে ফেরেন সাকিব। তবে তাতেও জয় পেতে সমস্যা হয়নি বাংলাদেশের। শেষ পর্যায়ে ঝড়ো ব্যাটিং করে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও নাসির হোসেন। জয়ের জন্য যখন মাত্র ২ রান দরকার তখন ৬ মেরে জয় পাওয়ার তাড়নায় প্রবীন কুমারকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হন নাসির (৫৪)। মুশফিকুর শেষ পর্যন্ত ২৫ বলে ৪৬ রানে অপরাজিত থাকেন। ৩টি চার ও ৩টি ছক্কার মারে ৪৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি।

এর আগে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ব্যাট করতে নেমে দলীয় ২৫ রানের মাথায় শফিউলের বলে বোল্ড হন গৌতম গম্ভীর (১১)। দ্বিতীয় উইকেটে শচীনের সঙ্গে ১৪৮ রানের জুটি গড়ে সাজঘরে ফেরেন বিরাট কোহলি (৬৬)। আব্দুর রাজ্জাকের বলে বোল্ড হন এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
কোহলি আউট হওয়ার পর তৃতীয় উইকেটে সুরেশ রায়নাকে নিয়ে ৮৬ রানের আরেকটি শক্ত জুটি গড়েন শচীন। এ জুটিতেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার সেঞ্চুরির দেখা পান ভারতের এ ব্যাটিং আইকন। ৪৪তম ওভারে সাকিব আল হাসানের চতুর্থ বলে এক রান নিয়ে শচীন পৌঁঁছে যান কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরিতে। এতে লিটল মাস্টার শচীন ক্রিকেট ইতিহাসে রচনা করেন নতুন অধ্যায়। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার ৪৯তম সেঞ্চুরি। ৪৬.৪ ওভারে মাশরাফির বলে রায়না (৫১) ক্যাচ দেয়ার পরের বলেই রহিমের গ্লাভসবন্দি হন শচীন (১১৪)। এ গ্রেট ব্যাটসম্যান তার ইনিংসটি সাজান ১২টি চার ও একটি ছক্কার মারে। দলীয় ২৫৯ রানে আউট হন শচীন। পরে স্কোর বোর্ডে আর মাত্র ৮ রান যোগ হতে না হতে আউট হন রোহিত শর্মা (৪)। ভারতের পঞ্চম উইকেট পতনের পর অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির অপরাজিত ২১ রানের সুবাদে ২৮৯ রান সংগ্রহ করে ভারত। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন সাকিব আল হাসান।

Images from espncricinfo.com

খেলার জগৎ

খেলার জগৎ


লেখক এর আর্কাইভ