দিবা-রাত্রির ম্যাচে টস একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেকে বলে টস জেতা মানেই ম্যাচ জেতা! শীত কালে বল গ্রিপ করা থেকে শুরু করে পিচ, আউটফিল্ড কোন কিছুই পরে বোলিং করা দলকে সাহায্য করে না। মিরপুর হোম অব ক্রিকেট মাঠের ইতিহাসও সে কথাই বলে। আজও সেই চিত্রটা পাল্টেনি। সাহারা কাপ বাংলাদেশ-ওয়েস্টইন্ডিজ সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে দুপুরে ক্যারিবীয় অধিনায়ক স্যামি টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিং করার আমক্রণ জানান। টাইগারদের শুরুটা মোটামুটি ভালই ছিল। ৪.৪০ গড়ে ১০ ওভারে রান ৪৪। দুই ওপেনারের ৫৭ রানের জুটি ভাঙ্গেন নারিন। উইকেট কিপারকের হাতে ক্যাচ দিয়ে তামিম ইকবাল ২২ রানে আউট। এরপর নাঈম ইসলাম। দুই বলের মালিক নাঈম প্রথম বলে চার মারলেও পরের বলেও আউট। উইকেট শিকারী নারিন। আর আনামুল এক ওভার পরে দুই বার জীবন পেয়েও সেই নারিনের বলেই এলবিডাব্লিউ হয়ে প্যাভিলিয়নে। আর অনেক ভরসার নাসিরের উপর ভরসা করলেও ৬ রানে পোলার্ডের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট। নাসিরের উইকেটটি নিয়েছেন ভেরামাসি পেরামল। ৭৮ রানে ৪ ব্যাটসম্যান আউট। সাকিবের জায়গায় খেলতে আসা মমিনুল ও মুশফিক ৩২ রানের জুটি কিছুটা আশা জাগালেও মমিনুলের অহেতুক শটস খেলে উইকেট বিলিয়ে আসেন। স্কোর ২২.৪ বলে ৫ উইকেটে ১১০ রান। মমিনুলের বিদায়ে মাহমুদুল্লাহ ও মুশফিক মিলে ষষ্ষ্ঠ উইকেট জুটিতে ইনিংসের সর্বচ্চ ৫৮ রানের জুটি গড়ে দলের স্কোর বোর্ডকে সচল রাখেন। মুশফিক ৩৮ রানে ফিরে গেলেও রিয়াদ নিজের ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ অর্ধশত রান করে আউট হন। শেষের দিকে ৩৬ বলে ৩০ রানে ইনিংসের ফলে বাংলাদেশ ২২৭ করতে সক্ষম হয়। ক্যারিবীয় বোলরদের পক্ষে নারিন ৩৭ রানে ৪ উইকেট ও স্যামি ৪৬ রানে ২ উইকেট নেন।
ক্যারিবীয়রা ২২৮ রানের টার্গেট নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে। বোলিং শুরু করেন সোহাগ গাজী আর মাশরাফি । ১৫ রান স্কোর বোর্ডে যোগ হবার পরই মাশরাফি গেইলকে মুশফিকের তালুবন্দি করে ফেরত পাঠান। ৩.৬ বল থেকে শুরু করে ক্যারিবীয়রা ২৬.৩ বল পর্যন্ত ম্যাচটি নিজেদের দখলে রাখেন। ৬ জন বোলার পরিবর্তন করেও মুশফিক পাওয়েল সামুয়েলস জুটি ভাঙতে পারছিলেন না। পরে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বলে পাওয়েলকে স্ট্যাম্পিং করেন মুশফিক। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে সামুয়েলস আর পাওয়েলের সংগ্রহ ১১১। এর পরে সামুয়েলস একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলে নিজের ক্যারিয়ারের ২৩তম অর্ধশত রান তুলে নিয়ে দ্রুত শতকের পথে আগাতে থাকেন। এক পর্যায়ে ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ গিয়ে দাড়ায় ৫ উইকেটে ১৮২ রান। ৯৬ রানে থাকা স্যামুয়েলস মমিনুলের চতুর্থ বলে মাশরাফির হাতে ক্যাচ দিলেও মাশরাফি তা ধরতে পারেনি। স্টেডিয়াম জুড়ে তখন ২৫০০০ মানুষের হতাশা। মমিনুল পরের ওভার গুলো নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ম্যাচটি উত্তেজনায় নিয়ে আসেন। সে সময়ে বল ও রানের পার্থক্য দুই। ৩৬ বলে ৩৪ রান। দলীয় ১৯৪ রানে স্যামুয়েলস চতুর্থ শতক পেয়ে যান।রুবেলকে বল করতে দেন মুশফিক। আবুল হাসানের জায়গায় সিরিজে প্রথম খেলতে আসেন রুবেল। আর প্রথম ম্যাচেই ভূমিকা রাখলেন খলনায়কের। ৪৫ ওভারে স্যামুয়েলস রুবেলের ওভারে ৩টি চার ও ২টি ছক্কার মেরে নিজেদের জয় নিশ্চিত করে নেন। পরের ওভারেই মাশরফি স্যামুয়েলসকে ফিরিয়ে দিলেও ততক্ষনে স্যামুয়েলসের সংগ্রহ ১৭টি চার ও ২টি ছয়ে ১২৬ রান। থমাস ১২ রানে ও স্যামি ১ রানে অপরাজিত থেকে নিজেদের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন।
ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন মারলন স্যামুয়েলস।



writer r leka valo.keep it up.valo laglo.