ভারত ও পাকিস্তানের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের স্বাদ পেল শেরে বাংলার দর্শক। ম্যাচের শেষ বল পর্যন্ত বোঝা যাচ্ছিল না ভাগ্যদেবি কার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। লড়াই হয়েছে সমানে সমানে। দ্বাদশ এশিয়া কাপের ষষ্ঠ ম্যাচে ভারতকে ১ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। মিরপুর শেরে বাংলায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে পাঠায় পাকিস্তান। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ভারত ২৪৫ রানের বেশি করতে পারেনি।জবাবে পাকিস্তান ২ বল ও ১ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে নিজেদেরকে এগিয়ে রাখলো। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের দুই ওপেনার আহমেদ শেহজাদ ও শারজিল খান ভারতীয় বোলারদের উপর চেপে বসে।বলের সাথে পাল্লা দিয়ে ব্যাটিং করে দুই ব্যাটসম্যান প্রথম পাওয়ার প্লে’র দশ ওভারে ৬৭ রান যোগ করেন। এরপর দলীয় ৭১ রানে (১১তম ওভার) ভারতকে ব্রেক থ্রু এনে দেন স্পিনার অশ্বিন। অশ্বিনের বলে ২৫ রানে আউট হন শারজিল খান। আরেক ওপেনার আহমেদ শেহজাদও বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি। ৪৪ বলে ৪২ রান করে অমিত মিশ্রর বলে মিড অনে ক্যাচ তুলে দেন ডান হাতি এই ব্যাটসম্যান। দলীয় ৯৩ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানো পাকিস্তান ১১৩ রান পর্যন্ত যেতেই আরও ২ উইকেট হারিয়ে বসে| দলীয় ৯৬ রানে হাফিজের সাথে ভুল বুঝাবুঝিতে রান আউট হন অধিনায়ক মিসবাহ উল হক (১)। আগের ম্যাচেও রান আউট হন মিসবাহ। এরপর ১১৩ রানে উমর আকমল অযাচিত শটস খেলতে গিয়ে অমিত মিশ্রর দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন। দ্রুত তিন উইকেট হারানো পাকিস্তান পঞ্চম উইকেটে ঘুরে দাড়ায়। জুটি বাঁধেন মিস্টার প্রফেসর খ্যাত হাফিজ ও শোয়েব মাকসুদ। ১২৭ বলে ৮৭ রান যোগ করেন তারা। এ সময়ে হাফিজ ক্যারিয়ারের ১৯তম অর্ধশত তুলে নেন। পঞ্চম উইকেটের জুটি ভাঙ্গেন অশ্বিন। দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যাবার পথে থাকা হাফিজ ব্যক্তিগত ৭৫ ও দলীয় ২০০ রানে অশ্বিনের বলে ভুবেনেশ্বর কুমারের হাতে তালুবন্দি হন। ১১৭ বলে ৩ চার ও ২ ছয়ে ৭৫ রান করেন তিনি। সে সময়ে জয়ের থেকে ৪৬ রান দূরে ছিল পাকিস্তান। ৩৯ বলে এ রান করতে হতো তাদের। জয়ের ব্যবধান ৩ রান কমে আসতেই হোঁচট খায় পাকিস্তান। সেট ব্যাটসম্যান শোয়েব মাকসুদ রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরেন। ৫৩ বলে ৩৮ রান করেন তিনি। ৪ উইকেট হাতে রেখে জয়ের থেকে ৪৩ রান দূরে থাকতে জুটি বাঁধেন আফ্রিদী ও উমর গুল। ২২ বলে ৩২ রান যোগ করেন তারা। কিন্তু ভুবেনেশ্বর কুমারের করা ৪৯তম ওভারের তৃতীয় বলে উমর গুল লং অনে ক্যাচ দিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তুলে। দুই বল পরেই অভিষিক্ত মোহাম্মদ তালহা লং অফে ক্যাচ দেন। অষ্টম উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে পাকিস্তান। শেষ ওভারে জয়ের থেকে ১০ রান পিছিয়ে ছিল পাকিস্তান। অশ্বিনের করা প্রথম বলে সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন সাঈদ আজমল। দ্বিতীয় বলে ১ রান নেন জুনায়েদ খান। পরের বলে আফিদ্রি ছক্কা হাকিয়ে ব্যবধান কমান। শেষ তিন বলে জয়ের জন্যে তিন রান প্রয়োজন ছিল পাকিস্তানের। চতুর্থ বলে আবারো ছক্কা হাকিয়ে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন আফ্রিদি। ১৮ বলে ৩৪ রান করে আফিদ্রি। ২ চার ও ৩ ছয় হাকান তিনি।এর আগে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ইনিংসের শুরুতেই উইকেট হারায় ভারত। মোহাম্মদ হাফিজেরবলে এলবিডাব্লউর শিকার হন শেখর ধাওয়ান (১০)। দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক কোহলী ও রোহিত শর্মা ৩৮রান যোগ করেন।এরপর ইনিংসের দশম ওভারের প্রথম বলে পেসার উমর গুলের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দেন বিরাটকোহলী (৫)। উইকেটের পেছেনে ক্যাচ ধরেন কিপার উমর আকমল।তৃতীয় উইকেটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ভারত। কিন্তু অভিষিক্ত পেসার মোহাম্মদ তালহার কারণে সেটাওহয়নি।ওপেনার রোহিত শর্মা অর্ধশত রান করে তালহার বলে পুল করতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ তুলে দেন। ৫৮বলে ৭ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ৫৬ রান করেন রোহিত।চতুর্থ উইকেটে অজিঙ্কা রাহানে ও আম্বাতি রাইডুর হাত ধরে শততরান পাড় করলেও দলীয় ১০৩ রানেসাজঘরে ফেরেন রাহানে। ৫০ বলে ২৩ রান করে মোহাম্মদ তালহার দ্বিতীয় শিকার হন তিনি। মিডউইকেটেক্যাচ ধরেন মোহাম্মদ হাফিজ।পঞ্চম উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়েন রাইডু ও কার্তিক। দুই ব্যাটসম্যানই নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলেদলের রানের চাকা সচল রাখেন।কিন্তু দলীয় ১৫৫ রানে হাফিজের বলে সাঈদ আজমলের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন কার্তিক (২৩)।ব্যাটসম্যানরা আসাযাওয়ার মিছিলে যোগ দিলেও রাইডু একপ্রান্ত ধরে খেলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অর্ধশতকতুলে নেন। তাকে সঙ্গ দেন জাদেজা।অবশ্য জাদেজা ব্যাক্তিগত ৭ ও ১২ রানে দুইবার জীবন পান। প্রথমবার জীবনটি দেন আম্পায়ার নাইজল লংএবং দ্বিতীয় জীবন দেন হাফিজ। ৭ রানে হাফিজের বলে এলবিডাব্লিউর শিকার হতে পারতেন জাদেজা। কিন্তুআম্পায়ার হাফিজের আবেদনে সায় দেয়নি। দুই ওভার পরই জাদেজার ক্যাচ ছাড়েন হাফিজ। ষষ্ঠ উইকেটে রাইডু ও জাদেজা ৬০ বলে ৫৯ রানের জুটি গড়ে দলকে লড়াকু সংগ্রহ এনে দেন। এই জুটি ভাঙ্গেনসাঈদ আজমল। ৪৭তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ৫৮ রান করা রাইডুকে ফিরিয়ে দেন তিনি। দুইবার জীবনপাওয়া জাদেজা ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন। ৪ চার ও ২ ছয়ে এ রান করেন তিনি। পাকিস্তানের হয়ে সাঈদ আজমল তিনটি উইকেট নেন। এছাড়া মোহাম্মদ তালহা ও মোহাম্মদ হাফিজ দুটি করেউইকেট নেন। একটি উইকেট নেন উমর গুল।