এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে আবারও একটি জয়ের আনন্দে ভাসতে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তাতে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ালো বাংলাদেশ দলের টেইল এন্ডার লাইন আপ। তাদের ব্যাট থেকে ভালো সাপোর্ট না পাওয়ায় জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো স্বাগতিক বাংলাদেশকে। অন্যদিকে, ১১তম এশিয়া কাপে শুভ সূচনা করল পাকিস্তান। গতকাল আসর ও নিজেদের প্রথম ম্যাচে ২১ রানে বাংলাদেশকে হারিয়েছে তারা।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে আট উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের জন্য ২৬৩ রানের লক্ষ্যমাত্রা বেধে দেয় পাকিস্তান। দলকে দারুণ একটা
সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার মোহাম্মদ হাফিজ ও নাসির জামশেদ। ১৩৫ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দলকে বড় স্কোরের একটি ভীত গড়ে দেন তারা। এ জুটিতে ফাটল ধরান সাকিব ও উইকেট কিপার মুশফিকুর রহিম। তাদের দ্বৈত প্রচেষ্টায় দলীয় ১৩৫ রানে ‘রান আউট’র শিকার হয়ে উইকেট ছাড়েন নাসির জামশেদ। সাজঘরে ফিরে যাওয়ার আগে ৬৪ বলে ৫৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। উইকেটের একপ্রান্ত আগলে রাখেন অপর ওপেনার মোহাম্মদ হাফিজ। ধীরে ধীরে ছুটে যাচ্ছিলেন তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরির দিকে। হাফিজের সে লক্ষ্য পূরণ হতে দিলেন না পেসার শাহাদাত হোসেন। তার বলে স্কয়ার লেগে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডার শফিউল ইসলামের হাতে তালুবন্দি হয়ে উইকেট ছাড়েন হাফিজ (৮৯)। ১২৬ বলে গড়া তার ইনিংসটিতে কোনো ছক্কার মার না থাকলেও ৭টি চারের মার রয়েছে। চার ম্যাচের মধ্যে হাফিজের এটি প্রথম হাফ সেঞ্চুরি। এর আগে দলীয় ১৬০ রানে শাহাদাত হোসেনের বলে আবদুর রাজ্জাকের হাতে ইউনিস খান (১২) ধরা পড়লে দ্বিতীয় উইকেট হারায় পাকিস্তান। অল্প সময়ের মধ্যে প্রথম সারির তিনটি উইকেট হারিয়ে ফেললে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে যায় তারা। এ বিপর্যয়ের ফলে শ্লথ হয়ে যায় পাকিস্তানের রানের গতি। ফলে শুরুতে বড় একটি ইনিংস গড়ার স্বপ্ন দেখলেও স্বাগতিকদের বোলিং তোপে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে আট উইকেটে ২৬২ রানে গিয়ে থেমে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। তাও সম্ভব হতো না যদি নয় নম্বরে ব্যাট করতে নামা উমর গুল ২৫ বলে ৩৯ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস না খেলতেন। বাংলাদেশ দলের বোলারদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন তিনটি উইকেট নেন। অন্যদের মধ্যে সাকিব দুটি, আবদুর রাজ্জাক এবং মাশরাফি বিন মর্তুজা একটি করে উইকেট নেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪৫ রানের পার্টনারশিপ গড়ে বাংলাদেশকে মোটামুটি ভালো একটি সূচনা এনে দেন তামিম ইকবাল ও নাজিমউদ্দিনের ওপেনিং জুটি। চিমার বলে উমর গুলের হাতে তালুবন্দি হওয়ার আগে ৩০ রান করেন নাজিমউদ্দিন। তবে উইকেট আগলে রাখেন অপর ওপেনার তামিম ইকবাল। দীর্ঘদিন পর রানে ফিরলেন তিনি। মোহাম্মদ হাফিজের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৮৯ বলে ৬৪ রানের ইনিংস খেলেন তামিম। তার এ ইনিংসটিতে একটি ছক্কা ও ছয়টি চারের মার রয়েছে।
বাংলাদেশ দলের প্রথম শতকটি আসে ২২ ওভার তিন বলে। তখনও স্বাগতিকদের হাতে বাকি ৭ উইকেট। কিন্তু মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মুশফিক (৩) ও মাহমুদুল্লাহ (০) দ্রুত উইকেট ছাড়লে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে দৃঢ়তার সঙ্গে এ বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠেন সাকিব আল হাসান ও নাসির হোসেন। ধীরে ধীরে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলে ৮৯ রানের এ জুটি। এ জুটিতে ফাটল ধরান পাকিস্তানি পেসার উমর গুল। নাসির হোসেনকে উইকেট ছাড়া করেন তিনি। তার বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৪৯ বলে ৪৭ রানের ইনিংস খেলেন নাসির। একাই ম্যাচের হাল ধরেন সাকিব। কিন্তু দলের টেইল এন্ডাররা ব্যর্থতার পরিচয় দিলে শেষ রক্ষা হয়নি বাংলাদেশের। শেষপর্যন্ত সাকিব ৬৬ বলে ৬৪ রানে অপরাজিত থাকেন। এটি তার ২৩তম ওয়ানডে অর্ধশতক। পাকিস্তান দলের বোলারদের মধ্যে উমর গুল ৩টি উইকেট নেন। ২টি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ হাফিজ, শহীদ আফ্রিদি ও সাঈদ আজমল। ম্যান অব দ্য ম্যাচ হন পাকিস্তানের মোহাম্মদ হাফিজ।