বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির পর জাতীয় দলে ফিরে ডেভিড ওয়ার্নার নিজেকে ঠিক কতটা মেলে ধরতে পারেন সেটাই দেখার জন্য অপেক্ষা করছিলো পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। অস্ট্রেলিয়া দলে ফিরেই বিশ্বকাপের প্রথম তিন ম্যাচে রানের দেখা পেয়েছিলো ওয়ার্নার। রানের দেখা পেলেও এই তিন ম্যাচে ক্রিকেট বিশ্ব দেখেছে ভিন্ন এক ওয়ার্নারকে। তিন ম্যাচেই মন্থর গতির ব্যাটিং করেছিল ওয়ার্নার। যা কিনা ওয়ার্নার নামের সাথে বেশ বেমানান। যার কারণে সমালোচনাকারীদের কটু কথা শুনতে হচ্ছিল তাকে।

তবে সমস্ত সমালোচনা পাশ কাটিয়ে গতকাল বিশ্বকাপে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজের চির চেনা রূপে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নার। খেলেছেন ১১১ বলে ১০৭ রানের দুর্দান্ত একটি ইনিংস। ওয়ার্নারের করা ১০৭ রানের ইনিংসে ভর করেই পাকিস্তানকে ৩০৭ রানের টার্গেট দিয়েছিলো অস্ট্রেলিয়া। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে ৪১ রানে হারায় অস্ট্রেলিয়া।

অনেক দিন পর দলে ফিরে বিশ্বকাপের মত মঞ্চে সেঞ্চুরি করে দলকে জেতাতে পেরে যারপরনাই খুশি ওয়ার্নার। অস্ট্রেলিয়া হয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ১৫টি সেঞ্চুরি করলেও এই সেঞ্চুরির মাহাত্ম্য অনেক বেশি বলে ম্যাচ শেষে উল্লেখ করেন ওয়ার্নার। এই প্রসঙ্গে ওয়ার্নার বলেন, ‘ইনিংস শুরুর দিকে বল বেশি মুভ করছিল, এ কারণে আমাকে শক্তভাবে বলগুলো মোকাবিলা করতে হচ্ছিল। একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে এই সেঞ্চুরি আমার কাছে অনেক কিছু। পাকিস্তান তাদের সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছে। তবে আমাদের বোলাররা ভালো বল করেছে। দুর্দান্ত একটি ম্যাচ ছিল।’

নতুন করে নিজেকে ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে পরিবারের (বিশেষ করে স্ত্রী ক্যানডিসের) সহযোগিতা পেয়ে অভিভূত ওয়ার্নার। সংবাদ মাধমের সামনে খারাপ সময়ের কথা স্মৃতিচারণ করে ওয়ার্নার বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি লিগগুলোতে রান পাওয়ার আগে, আমি বিছানা ছেড়ে ঠিকভাবে উঠতেই পারতাম না। তবে আমার বাচ্চারা আর আমার স্ত্রী আমাকে সবসময় সাহায্য করেছ। আমি আমার ঘর, আমার পরিবার থেকে অনেক সমর্থন পেয়েছি। বিশেষ করে আমার স্ত্রী। সে আমার পরশমণি। সে অবিশ্বাস্য। সে সর্বদা আমার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, বিনয়ী ও নিঃস্বার্থ ছিল।‘