আমিনুল, আশরাফুলের কথা সবারই মনে আছে। বাংলাদেশের প্রথম টেস্টের প্রথম শতকধারী আমিনুল। আশরাফুল তো টেস্ট ক্রিকেটের সর্বকনিষ্ঠ শতকধারী ব্যাটসম্যান। আজ খুলনায় তাদের সাথে যুক্ত হল আবুল হাসানের নাম। প্রথম অভিষেকের ম্যাচে শতকধারী বাংলাদেশের তিন নম্বর ব্যাটসম্যান। দিনের শেষে অপরাজিত ১০০ রানে। তার একদিনের মেজাজের ব্যাটিং স্যামির সারাদিনের হাসিকে শেষ বিকেলে মলিন করে দিল। শাহাদাতের স্থলে আজ সকালে বাংলাদেশের ৬৫ তম খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেক হয় আবুল হাসানের।
আজ নতুন ভেন্যু খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে সকাল সাড়ে নয়টায় শুরম্ন হয় সাহার কাপ বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। টসে জয় মুশফিকের। ভুল না করে ব্যাটিং উইকেটে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত ।
ওপেনিং জুটিকে পরিবর্তন
করে জুনায়েদের জায়গায় একাদশে জায়গা পেলেন নাজিমউদ্দিন। তবে পরিবর্তন কোন প্রকার কাজে আসল না। রবি রামপলের পরিবর্তে একাদশে ডাক পাওয়া ফিডেল এ্যাডওয়ার্স দ্বিতীয় ওভারেই নাজিমউদ্দিনকে ৪ রানে ফিরিয়ে দিলেন। পরের ধাক্কাটা শাহরিয়ার ও তামিম সামাল দেবার চেস্টা করলেও বেশী দূর এগিয়ে যেতে পারেনি। ৫৯ রানের জুটি করে শাহরিয়ার নাফিস স্যামির বলে ২৬ রানে আউট হয়ে ফিরে যান। স্যামির পরের ওভারেই ফিরে যান তামিম ইকবাল। স্কোর ৭৩/৩। সাকিব ও নাঈম মধ্যাহ্ন বিরতী পর্যন্ত ঠিক মতো খেললেও বেশিক্ষন তা ধরে রাখতে পারেনি। মধ্যহ্ন বিরতীর পর দ্বিতীয় ওভারেই নাঈমের(১৬) ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হয়ে ফিরে যান। সাকিব কিছুটা আশা জাগালেও স্যামির বলে দ্বিতীয় স্লিপে জীবন পেলেও এক ওভার পরেই স্যামির বলেই উইকেটের পিছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। ৯৮ রানেই ইনিংসের অর্ধেক খেলোয়াড় প্যাভিলীয়নে! অধিনায়ক মুশফিক ও নাসির ৮৭ রানে জুটি গড়ে দলকে বড় স্কোরের আশা জাগিয়েও নাসির তার আক্রমণাত্তক ব্যাটিং এর কারণে চা-বিরতির আগের ওভারে আউট হয়ে ফিরে যান। নাসির তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় অর্ধশত রান তুললেও ৫২ রানেই ফিরে যান প্যাভিলীয়নে । আর চা-বিরতীর পরই অধিনায়ক মুশফিক আউট। উইকেটের পিছনে রামদিনের হাতে তালুবন্দি হয়ে ফিরে যান মুশফিক। আর একই ওভারের শেষ বলে সোহাগ গাজীকে ফিরিয়ে দিয়ে ফিডেল এ্যাডওয়ার্স তার ৫ম উইকেটের আনন্দ উদযাপন করে নেয়।
বাকিটা গল্প বাংলাদেশের। স্কোর ১৯৮/৮ । বাংলাদেশ তখন হয়তোবা ফিল্ডিং এ নামার প্রস্তুতি গ্রহন করছিল। কিন্তু সকলের চিন্তার বাহিরের কাজটি করে দেখালেন মাহমুদুলস্নাহ আর আবুল। ১৭২ রানের অপরাজিত জুটি গড়ে বাংলাদেশকে একটি সম্মানজনক স্কোর এনে দেন তারা। দশম ব্যাটসম্যান হিসেবে আবুল রেকর্ড পরিমান রান করে দিন শেষ করে। আগের সরবচ্চ স্কোর ছিল ৭৫। দিনের শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৩৬৫/৮।
আগামীকালের দিনের শুরুটা ভালো করে করলে বাংলাদেশ একটি বড় সংগ্রহ পেতে পারবে। আগামীকাল মাহমুদুল্লাহ ৭২ রানে ও আবুল ১০০ রানে দিনের শুরু করবেন। ক্যারিবীয়দের পক্ষে এ্যাডওয়ার্স ৫টি , স্যামি ২টি ও পেরামাল ১টি উইকেট নেন।