ফুটবল বিশ্বে ব্রাজিল মানেই এক জাদুকরী আবেগ, সাম্বা নৃত্যের ছন্দ আর হলুদ জার্সির চিরচেনা দাপট। তবে ২০০২ সালের পর দীর্ঘ ২৪ বছর কেটে গেলেও ছয়ে নম্বর নক্ষত্র বা ‘হেক্সা’ ট্রফিটি এখনো অধরাই রয়ে গেছে সেলেসাওদের জন্য। উত্তর আমেরিকার মাটিতে এবার সেই খরা কাটাতে সম্পূর্ণ নতুন রূপ ও রণকৌশল নিয়ে হাজির হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে কেমন হলো ব্রাজিলের স্কোয়াড, কে সামলাচ্ছেন ডাগআউট আর কোন ফর্মেশনে খেলবে দল—চলুন ডেটা ও পরিসংখ্যানের আলোতে দেখে নেওয়া যাক।

ডাগআউটে মাস্টারমাইন্ড: কার্লো আনচেলত্তির জাদুকরী ছোঁয়া

ব্রাজিল ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চমকটি এসেছে তাদের ডাগআউটে। কোনো ব্রাজিলীয় নয়, বরং রিয়াল মাদ্রিদের ডানিং টেবিল থেকে সরাসরি ব্রাজিলের হটসিটে বসেছেন ইতিহাসের অন্যতম সফল ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তিসেলেসাওদের ইতিহাসে তিনিই প্রথম হাই-প্রোফাইল বিদেশী কোচ।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত: ফুটবল বোদ্ধাদের মতে, আনচেলত্তির সবচেয়ে বড় গুণ হলো তিনি দলের তারকা খেলোয়াড়দের মানসিকতা খুব ভালো বোঝেন। ভিনিসিয়ুস, রদ্রিগোদের মতো তরুণদের রিয়াল মাদ্রিদে যেভাবে তিনি বিশ্বসেরা বানিয়েছেন, জাতীয় দলেও সেই রসায়ন ব্রাজিলকে এক অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত করতে পারে।

২০২৬ বিশ্বকাপের সম্ভাব্য শক্তিশালী লাইনআপ

আনচেলত্তি সম্প্রতি যে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন, তাতে রয়েছে তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার এক দারুণ ভারসাম্য। ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ মহাতারকা নেইমার জুনিয়র, যা দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সম্ভাব্য শক্তিশালী একাদশ (Predicted Starting XI):

  • গোলরক্ষক: অ্যালিসন বেকার (লিভারপুল)।

  • ডিফেন্ডার: ওয়েসলি, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, মার্কিনহোস, অ্যালেক্স সান্দ্রো।

  • মিডফিল্ডার: ব্রুনো গিমারায়েস, ক্যাসেমিরো।

  • অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার/উইঙ্গার: রাফিনহা, নেইমার/এনড্রিক, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

  • স্ট্রাইকার: ম্যাথিউস কুনিয়া।

রাইজিং স্টার: বিশ্ব কাঁপাতে প্রস্তুত যারা

ব্রাজিল দল মানেই নতুন প্রতিভার জন্মভূমি। এবারও বিশ্বমঞ্চ মাতাতে প্রস্তুত বেশ কয়েকজন তরুণ তুর্কি:

  • এনড্রিক (Endrick): মাত্র ১৯ বছর বয়সী রিয়াল মাদ্রিদের এই বিস্ময় বালককে বলা হচ্ছে ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ নাম্বার নাইন। তাঁর ফিজিক্যালিটি এবং নিখুঁত ফিনিশিং প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য যথেষ্ট।

  • রায়ান (Rayan): বোর্নমাউথের এই তরুণ ফরোয়ার্ড তাঁর গতি এবং ড্রিবলিং স্কিল দিয়ে ইতিমধ্যেই ইউরোপীয় স্কাউটদের নজর কেড়েছেন। আনচেলত্তির ট্রাম্পকার্ড হতে পারেন এই তরুণ।

ট্যাকটিক্যাল ফর্মেশন: ‘ডন কার্লো’র ৪-২-৩-১ চাল

কোচ কার্লো আনচেলত্তি মূলত ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবল খেলতে পছন্দ করেন। ব্রাজিলেও তিনি তাঁর প্রিয় ৪-২-৩-১ (4-2-3-1) ফর্মেশন ব্যবহার করছেন।

এই ফর্মেশনে ক্যাসেমিরো এবং ব্রুনো গিমারায়েসের ডাবল-পিভট (Double Pivot) মাঝমাঠকে দারুণ সুরক্ষা দেবে। এর ফলে উইংয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং রাফিনহা একদম স্বাধীনভাবে আক্রমণের ঝড় তুলতে পারবেন। আর নাম্বার টেন পজিশনে নেইমার বা কুনিয়া বল সাপ্লাইয়ের মূল দায়িত্ব পালন করবেন।

সফলতার সম্ভাবনা: ডেটা কী বলে?

বুকমেকার এবং ফুটবল স্ট্যাটিস্টিকস অনুযায়ী, ট্রফি জয়ের দৌড়ে ব্রাজিল বর্তমানে চতুর্থ স্থানে (+৮৫০ অডস) অবস্থান করছে। গত কয়েক বছরের কোয়ালিফাইং রাউন্ডের অধারাবাহিকতা কাটিয়ে আনচেলত্তির অধীনে দলটি এখন অনেক বেশি সুশৃঙ্খল। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, “ব্রাজিল যদি তাদের আক্রমণভাগের গতি এবং মাঝমাঠের ডিফেন্সিভ ট্রানজিশন ঠিক রাখতে পারে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ২৪ বছরের খরা কাটিয়ে ষষ্ঠ শিরোপা উঁচিয়ে ধরা সময়ের ব্যাপার মাত্র।”

খেলার জগতের পাঠকেরা, আপনাদের কি মনে হয়? কার্লো আনচেলত্তির এই নতুন ফর্মুলা আর নেইমার-ভিনিসিয়ুসের যুগলবন্দী কি পারবে ব্রাজিলকে বহুল প্রতীক্ষিত ‘হেক্সা’ এনে দিতে? কমেন্ট করে আমাদের জানান!