ইউরো ২০২৪-এর রাজকীয় মুকুট মাথায় পরে এবার উত্তর আমেরিকার বিশ্বমঞ্চে পা রাখছে স্পেন। বিশ্বজুড়ে বুকমেকারদের ফেবারিটের তালিকায় তারা রয়েছে একদম শীর্ষস্থানে। টিকিটাকা পাসিংয়ের ঐতিহ্য ধরে রেখে ফরাসি ও ল্যাটিন শক্তিকে গুঁড়িয়ে দিতে প্রস্তুত লা রোজারা।
তারুণ্যের গতি আর নিখুঁত পাসিংয়ের মিশেলে স্পেনের শক্তি, দুর্বলতা এবং স্কোয়াড বিশ্লেষণ করা হলো খেলার জগতের আজকের বিশেষ প্রতিবেদনে।
ডাগআউটের নিভৃত মাস্টারমাইন্ড: লুইস দে লা ফুয়েন্তে
কোনো বড় নামের জাঁকজমক ছাড়াই স্প্যানিশ ফুটবলকে আবার সাফল্যের চূড়ায় এনেছেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। যুব দল থেকে ফুটবলারদের চিনে আসার কারণে দলের প্রতিটি তরুণের নাড়ি-নক্ষত্র তাঁর জানা।
তারকাদের অহংকার সামলে মাঠের খেলায় দলগত রসায়ন ফুটিয়ে তোলাই দে লা ফুয়েন্তের সবচেয়ে বড় সাফল্য। বড় টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে তাঁর ট্যাকটিক্যাল ম্যাচ-রিডিং স্পেনকে এবারও ট্রফি জয়ের মূল দাবিদার করে তুলেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের সম্ভাব্য শক্তিশালী লাইনআপ
রদ্রি এবং পেদ্রির মতো মাঝমাঠের জাদুকরদের উপস্থিতিতে স্পেনের একাদশ যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই দুঃস্বপ্ন। আক্রমণ ও রক্ষণের দারুণ ভারসাম্য দেখা যাচ্ছে এই স্কোয়াডে।
সম্ভাব্য সেরা একাদশ (Predicted Starting XI):
-
গোলরক্ষক: উনাই সিমন।
-
ডিফেন্ডার: দানি কারভাহাল, রবিন লে নরম্যান্ড, এমেরিক লাপোর্তে, আলেক্স গ্রিমাল্দো।
-
মিডফিল্ডার: রদ্রি, পেদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ।
-
ফরোয়ার্ড: লামিন ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস, আলভারো মোরাতা।
রাইজিং স্টার: বিশ্ব কাঁপাতে প্রস্তুত যারা
স্পেন দল মানেই প্রতিভার অন্তহীন খনি, যেখানে এবার বিশ্বমঞ্চ মাতাতে প্রস্তুত একঝাঁক বিস্ময় বালক।
-
লামিন ইয়ামাল (Lamine Yamal): মাত্র ১৮ বছর বয়সেই ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা উইঙ্গার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বার্সেলোনার এই ওয়ান্ডারকিড।
-
গাভি (Gavi): ইনজুরি কাটিয়ে সম্পূর্ণ ফিট হয়ে ফেরা এই মিডফিল্ডারের আগ্রাসী ফুটবল স্পেনের মাঝমাঠে বাড়তি এনার্জি যোগাবে।
-
পাউ কুবারসি (Pau Cubarsí): নিখুঁত পাসিং এবং দূরদর্শিতার কারণে এই তরুণ ডিফেন্ডারকে স্পেনের রক্ষণের ভবিষ্যৎ বলা হচ্ছে।
ট্যাকটিক্যাল ফর্মেশন: দে লা ফুয়েন্তের আধুনিক ৪-৩-৩
প্রথাগত টিকিটাকার চেয়ে দে লা ফুয়েন্তের স্পেন অনেক বেশি সরাসরি এবং আক্রমণাত্মক, যার মূল ভিত্তি ৪-৩-৩ (4-3-3) ফর্মেশন।
এই ছকে রদ্রি মাঝমাঠের পুরো খেলাটা নিয়ন্ত্রণ করেন, যা পেদ্রি ও রুইজকে ফ্রিলি ওপরে ওঠার সুযোগ দেয়। আর দুই উইংয়ে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের বিধ্বংসী গতি প্রতিপক্ষের ডিফেন্সকে এক মুহূর্তও স্বস্তিতে থাকতে দেয় না।
দলের শক্তি ও দুর্বলতা
শক্তি: স্পেনের প্রধান শক্তি হলো তাদের অবিশ্বাস্য মাঝমাঠ এবং উইঙ্গারদের ওয়ান-অন-ওয়ান ড্রিবলিং স্কিল। ম্যাচের বল পজেশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে ফেলাই তাদের মূল কৌশল।
দুর্বলতা: আক্রমণের তুলনায় স্পেনের সেন্ট্রাল ডিফেন্স কিছুটা ধীরগতির, যা ক্ষুরধার কাউন্টার-অ্যাটাকিং দলের সামনে পরীক্ষায় পড়তে পারে। এছাড়া নাম্বার নাইন পজিশনে মোরাতার অফ-ফর্ম মাঝে মাঝে গোল খরা তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞদের চোখে ‘লা রোজা’
বিশেষজ্ঞদের অভিমত: ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, “এই স্পেইলড স্প্যানিশ টিমটি নিখুঁত দলগত ফুটবলের শেষ কথা। রদ্রি যদি মাঝমাঠের ইঞ্জিন সচল রাখতে পারেন এবং ইয়ামাল তাঁর সহজাত ম্যাজিক দেখাতে পারেন, তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ স্পেনের ঘরে যাওয়া কেউ ঠেকাতে পারবে না।”
খেলার জগতের পাঠকেরা, গ্রুপ ‘E’ তে থাকা স্পেন কি পারবে ২০১০ সালের পর তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপটি ঘরে তুলতে? কমেন্ট বক্সে আপনাদের মূল্যবান মতামত জানান!