ফুটবল মানচিত্রে ফ্রান্স দল মানেই এক আতঙ্কের নাম, যাদের বেঞ্চের শক্তি দিয়ে আরও একটা বিশ্বমানের দল নামিয়ে দেওয়া সম্ভব। ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়ন এবং ২০২২ সালের রানার্স-আপরা এবার উত্তর আমেরিকার মাটিতে নামছে তাদের জার্সিতে তৃতীয় নক্ষত্রটি যোগ করতে।

ইউরো ২০২৪ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে আসা ফরাসিদের শক্তির গভীরতা এবং ট্যাকটিক্যাল চাল বিশ্লেষণ করা হলো এবারের বিশেষ প্রতিবেদনে।

ডাগআউটের শেষ মিশন: দিদিয়ের দেশম

ফরাসি ফুটবলের অন্যতম সফল প্রবাদপুরুষ দিদিয়ের দেশম এবারও আছেন ডাগআউটে, যা কোচ হিসেবে তাঁর টানা চতুর্থ বিশ্বকাপ। খেলোয়াড় এবং কোচ—উভয় রূপেই বিশ্বজয়ের অনন্য কীর্তি গড়া দেশমের জন্য এটিই হতে যাচ্ছে ফ্রান্সের হয়ে শেষ এসাইনমেন্ট।

ইতিমধ্যেই গুঞ্জন উঠেছে এই টুর্নামেন্ট শেষেই জিনেদিন জিদান ফরাসি ডাগআউটের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। ফলে নিজের বিদায়টা ট্রফি উঁচিয়েই রাঙাতে চাইবেন এই মাস্টারমাইন্ড কোচ।

২০২৬ বিশ্বকাপের সম্ভাব্য শক্তিশালী লাইনআপ

তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপের কাঁধে এবারও থাকছে অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ড। দল থেকে এবার বেশ কিছু পুরোনো মুখ বাদ পড়লেও তারুণ্যের গতিতে স্কোয়াডটি দুর্দান্ত ভারসাম্য পেয়েছে।

সম্ভাব্য সেরা একাদশ (Predicted Starting XI):

  • গোলরক্ষক: মাইক মেনিও।

  • ডিফেন্ডার: জুলেস কুন্দে, উইলিয়াম সালিবা, দায়ো উপামেকানো, থিও হার্নান্দেজ।

  • মিডফিল্ডার: অহেলিয়াঁ চুয়ামেনি, আদ্রিয়েন রাবিও, এনগোলো কান্তে।

  • ফরোয়ার্ড: উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিসে, কিলিয়ান এমবাপে।

রাইজিং স্টার: বিশ্ব কাঁপাতে প্রস্তুত যারা

প্যারিস অলিম্পিকে রুপো জেতা তরুণ রক্ত এবার মূল ফরাসি দলে যোগ হয়ে গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

  • মাইকেল অলিসে (Michael Olise): বায়ার্ন মিউনিখের এই উইঙ্গার বর্তমানে ব্যালন ডি’অর জয়ের অন্যতম বড় দাবিদার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।

  • রায়ান চেরকি (Rayan Cherki): ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়ে প্রিমিয়ার লিগ কাঁপানো এই মিডফিল্ডারের পায়ে রয়েছে জাদুকরী ক্রিয়েটিভিটি।

  • দেজিরে দুয়ে (Désiré Doué): পিএসজির এই তরুণ ফুটবলার তাঁর নিখুঁত ফর্ম দিয়ে ফ্রান্সের আক্রমণভাগে নতুন ধার যোগ করেছেন।

ট্যাকটিক্যাল ফর্মেশন: দেশমের ক্লাসিক ৪-৩-৩

ট্যাকটিশিয়ান দেশম সাধারণত ভারসাম্যপূর্ণ এবং দ্রুত কাউন্টার-অ্যাটাকিং ফুটবল পছন্দ করেন, যার জন্য তাঁর প্রিয় ফরম্যাট ৪-৩-৩ (4-3-3)

এই ফর্মেশনে সালিবা ও উপামেকানোর রক্ষণভাগকে শিল্ড দেবেন অভিজ্ঞ এনগোলো কান্তে ও চুয়ামেনি। আর মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে দুই উইং দিয়ে দেম্বেলে ও অলিসে বল জোগান দেবেন সেন্ট্রাল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলতে যাওয়া এমবাপেকে।

দলের শক্তি ও দুর্বলতা

শক্তি: ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট হলো তাদের অবিশ্বাস্য ‘স্কোয়াড ডেপ্থ’ বা বেঞ্চের শক্তি। যেকোনো পজিশনের খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়লেও তার বিকল্প হিসেবে বিশ্বমানের খেলোয়াড় প্রস্তুত থাকে।

দুর্বলতা: সাম্প্রতিক ডেটা বলছে, সেট-পিস ডিফেন্ডিং বা কর্নার থেকে গোল হজম করা ফ্রান্সের বড় দুর্বলতা। বড় ম্যাচে নিজেদের বক্সে এই মনোযোগের অভাব তাদের ভোগাতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের চোখে ‘লে ব্লুজ’

বিশেষজ্ঞদের অভিমত: ফুটবল বিশ্লেষক লুইস মিগুয়েল ইচেগারায়ের মতে, “ফ্রান্সের এই স্কোয়াডটি এক কথায় ভয়ঙ্কর। তবে অভিজ্ঞ কান্তে কিংবা সালিবাদের ডিফেন্সিভ স্পাইনের ওপর ভর করেই মূলত আক্রমণভাগ ফ্রিলি খেলার সুযোগ পাবে。 এমবাপে যদি মানসিকভাবে শান্ত থেকে নিজের সেরাটা দিতে পারেন, তবে ফ্রান্সকে আটকানো যেকোনো দলের জন্যই অসম্ভব হবে।”

খেলার জগতের পাঠকেরা, সেনেগাল, ইরাক আর নরওয়ের সাথে গ্রুপ ‘I’ তে থাকা ফ্রান্স কি পারবে এবার তাদের তৃতীয় নক্ষত্রটি জয় করতে? কমেন্ট বক্সে আপনাদের মতামত জানান!