১০.১১.২০০০ সালটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য স্মরণীয় একটি দিন। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ। প্রতিপক্ষ পার্শবর্তী দেশ ভারত। উদ্বোধনী টেস্ট ম্যাচ, উদ্বোধন করলেন সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উপাস্থিত ছিলের বাংলাদেশ ও ভারতের তৎকালিন বোর্ডের সভাপতি। খেলা শুরু। টসে জিতে বাংলাদেশ ব্যাটিং এ নামলেন। সপ্নের মতো শুরু। প্রথম ইনিংসে ৪০০ রান, আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ১৪৫ অধিনায়ক নাইমুর রহমান দুর্জয়ের ৬ উইকেট। ম্যাচটি হেরে গেলেও জানিয়ে দিয়েছিলেন পৃথিবীর বুকে নতুন ঝড় তুলতে আসছে বাংলাদেশ টেস্ট দল।

গত ১০.১১.১২ পার হয়ে গেল এক যুগ। সবার প্রত্যাশা মতো পারলো না সাফল্য এনে দিতে। বর্তমানে টেস্ট র্যাঙ্কিং এ অবস্থান ৯ নম্বরে। প্রথম টেস্ট জয় চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। বিদেশের মাটিতে প্রথম জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে ছিল খুব আনন্দময় দিন ছিল দিনটি। এই দিনে এক যুগ আগে বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রিকেট দরবারে মাথা উচু করে নিজেদের উপস্থিতি বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ঘোষনা করেছিল। অভিষেক টেস্ট খেলা বাংলাদেশ আজ ১২ বছর পার করেছে। সে কারনেই আজ বিসিবি অভিষেক টেস্টের সদস্যদের নিয়ে কেক কেটে আনন্দময় কিছুসময় অতিবাহিত করেন বোর্ড কর্মকর্তারা।

মিরপুর স্টেডিয়ামে টেস্ট ম্যাচে যুগ পূর্তি অনুষ্ঠানে নাজমুল হাসান বলেন, “টেস্ট ম্যাচই ক্রিকেটে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনেকের প্রচেষ্টায় আজকে এই পর্যায়ে এসেছে। যতবেশি খেলোয়াড়-সংগঠককে ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে ততই ভালো হবে। টেস্ট ক্রিকেটকেই আমরা সবচেয়ে বেশি গুরম্নত্ব দিচ্ছি। অন্য ফরম্যাটে আমরা বেশ উন্নতি করলেও টেস্টে এখন পর্যন্ত তেমন কিছু করতে পারি নি। বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে ভালো করলে অন্য দুই ফরম্যাটেও ভালো করার সম্ভব বলে এই ফরম্যাট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি ভাবছি।”

বিসিবি সভাপতি এদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে সাবেক অধিনায়ক ও খেলোয়াড়, ক্রীড়া সাংবাদিক, প্রিমিয়ার লিগ, প্রথম বিভাগের ক্লাব কতৃপক্ষ ও স্পন্সরদের সঙ্গে শিগগির আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। কেক কাটার পর বিসিবি সভাপতি ২০০০ সালের অভিষেক টেস্টের অধিনায়ক নাইমুর রহমানকে কেক তুলে খাইয়ে দেন। এবং নাইমুর সভাপতির মুখে একই ভাবে কেক তুলে দেন।

বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটের এক যুগ পূর্তি অনুষ্ঠানের কিছু মুহূর্ত

ছবি সুত্রঃ বিসিবি

প্রথম টেস্টের অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয় অভিষেক টেস্টের একযুগ পূর্তি উপলক্ষে বলেন, “দুয়েকটা প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলেই আমরা প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেছিলাম। তারপর আমাদের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট এসেছে। বছরে ক্রিকেটাররা অন্ততঃ ৭/৮টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু আমাকে বলতেই হবে, প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট এখনো অবহেলিত। একে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিতে হবে। টেস্টে ভালো করতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই।”

প্রথম টেস্টের কোচ সারোয়ার ইমরান বলেন, “আমাদের মূল সমস্যা কিন্তু মাঠ আর উইকেট। আমাদের আরো অনেক মাঠ লাগবে। এর মধ্যে মিরপুরের এই স্টেডিয়ামটি ছাড়া আর কোনো স্টেডিয়াম আমরা পাইনি। আমাদের প্রাণবন্ত উইকেটে বেশি ম্যাচ খেলতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।”

২০০০ সালের ১০ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের খেলোয়াড় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সেই সময়ের নির্বাচকরাও। বর্তমান ক্রিটেকটাদের মধ্যে এসেছিলেন সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, ইলিয়াস সানী। তবে দেশের বাহিরে থাকার কারণে উপস্থিত হতে পরেনি প্রথম শতকধারী আমিনুল ইসলাম বুলবুল ।