মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে আজ সন্ধ্যা ৬টায়  বিপিএল দ্বিতীয় আসরের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। সবগুলো ম্যাচ শেষ হবার পর ফাইনাল ম্যাচে মিরপুরের মাঠে উপস্থিত হল হাজারো দর্শক। পুরো স্টেডিয়াম গ্যালারি কানায় কানায় পরিপূর্ণ। প্রথম বারের মতো ফাইনাল খেলা চিটাগং কিংসের সামনে শিরোপা জয়ের হাতছানি। আর ঢাকার দ্বিতীয়বার শিরোপা নিজেদের করে নেয়া, এরকম সমীকরণে দুই দল মিরপুর মাঠে শিরোপা যুদ্ধের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয়। প্রথমে ব্যাটিং করে ঢাকা নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৭২ রানের সংগ্রহ পায়। জবাবে সব উইকেট হারিয়ে ৪৩ রানের হার নিয়ে শিরোপা হারায় চিটাগং কিংস।টসে জিতে চিটাগং কিংসের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহর ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ঢাকাকে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানান। ক্রিস গেইল বিহীন ঢাকা মূল একাদশে জশুয়া কবকে নিয়ে দল সাজায়। অপরদিকে চিটাগং কিংস কেভিন কুপার ও জ্যাকব ওরামকে বসিয়ে দুই শ্রীলংকান দনুশকা দিলহারা ও সিয়ান জয়সুরিয়াকে অন্তর্ভূক্ত করেন।

চিটাগং কিংসকে প্রথমেই সাফল্য এনে দেন পেসার তাসকিন আহমেদ। ইনফর্ম দিলশানকে বোল্ড করে ফিরান মাত্র ২ রানে। সেখান থেকে ঢাকার হয়ে টপ স্কোরার(৩৩৪) মোহাম্মদ আশরাফুল এবং তরুণ এনামুল ২৬ বলে ৪৪ রান করেন। গতকাল নির্বাচকদের দেয়া স্কোয়ার্ডে জায়গা না পাওয়া ক্ষোভে আশরাফুল শুরুটা বেশ ভালো করেন। তাসকিনের দ্বিতীয় ওভারে ১৩ রান তুলে নেন। তবে তার ব্যাটিং ধার  বেশীদূর এগুতে দেননি শ্রীলংকান পেসার দনুশকা দিলহারা। ১৬ বলে ২৪ রান করা আশরাফুলকে স্বদেশী জয়সুরিয়ার হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় করেন। ৪৯ রানে আশরাফুলের বিদায়ের পর সাকিবের সাথে জুটি বাধেন এনামুল। পাওয়ার প্লে-র প্রথম ছয় ওভারে ঢাকার সংগ্রহ ২ উইকেটে ৫১ রান। তৃতীয় উইকেট জুটিতে এই দুই ব্যাটসম্যান ৩১ বলে ৪৮ রানের জুটি গড়ে। এনামুল কিছুটা আক্রমণাত্তক হয়ে খেললেও সাকিব উইকেট ধরে ব্যাটিং করতে থাকেন। এনামুল ৩১ বলে ৫০ রানের ইনিংস খেলেন।  ৫ চার ও ২ছয়ে এনামুল দ্রুত অর্ধশত পেলেও এগারতম ওভারের তৃতীয় বলে রুবেল হোসেনের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান। ৯৭ রানে এনামুল বিদায়ের পর ক্যারিবীয় কিরণ পোলার্ড মাত্র ৯ রানেই বিদায় নেন। রবি বোপারার বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান পোলার্ড। সাকিব একপাশ অবিচল হয়ে খেলতে থাকলেও দলীয় ১৫০ রানে ও ব্যাক্তিগত ৪১ রানে ফিরে যান। ২৯ বলে ৪১ রানের ইনিংস খেলতে সাকিব ২ চার ও ২ ছয় মারেন। সাকিবের বিদায়ের পর ৬ রান তুলতেই কব (৩) এবং স্টিভেন্স (৮) রুবেলের শিকার হয়ে ফিরে যান। অধিনায়ক মাশরাফি দ্রুত দুই চারে আট রান তুলে নিলেও রুবেলের শেষ বলে মিড অফে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। তাসকিনের শেষ ওভারে ৮ রান যোগ করেন আলফানসো থমান ও মোশরারফ রুবেল। ২০ ওভারে ঢাকা গ্লাডিয়েটরস ৯ উইকেট হারিয়ে ১৭২ রান সংগ্রহ করে। চিটাগং কিংসের পক্ষে রুবেল হোসেন ৪৪ রানে ৪ উইকেট, তাসকিন ২৮ রানে ২ উইকেট এবং দনুশকা দিলহারা ২৯ রানে ২ উইকেট নেন।

১২০ বলে ১৭৩ রানের প্রয়োজনে ব্যাটিং করতে নেমে ওপেনার সিয়ান জয়সুরিয়াকে ৫ রানে হারায় চিটাগং কিংস। তবে মাশরাফির প্রথম দুই ওভারে জেসন রয় ১৭ রান তুলে নেন। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে সোহান ও রয় ২১ বলে ২৫ রান যোগ করেন। মোশাররফ রুবেলের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে সোহান লং অফে ক্যাচ দেন। ১০ বলে ৩ চারে সোহান ১৪ রান করে ফিরে যান। দলীয় ৫০ রান আসে ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে। ৬১ রানে সাকলাইন সজিব এলবিডাব্লিউ-ও ফাদে পেলে রবি বোপারাকে (২) বিদায় করেন। ৪ রান যোগ করতেই প্রথমে রায়ান টেন ডয়েসকাটকে ২ এবং এক বল পরে জেসন রয়কে ৪০ রানে বিদায় করেন মোশাররফ রুবেল। তিন ওভারে চার উইকেট তুলে নিয়ে স্পিনাররা ঢাকাকে খেলায় ফেরত নিয়ে আসেন। ৬৫ রানে ৫ উইকেট চলে যাওয়ার ব্যকফুটে চলে যায় চিটাগং কিংস। ইনিংসের অর্ধেকতম ওভারে চিটাগং কিংস ৫ উইকেটে সংগ্রহ করে ৭০ রান। শেষ ৬০ বলে ১০৩ রানের বিপরীতে খেলতে নেমে চিটাগং কিংস ৫৯ রান করতে সক্ষম হয়। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে আরিফুল ও মাহমুদুল্লাহ ২৮ বলে ৩৭ রান করেন। ১৪তম ওভারে আরিফুল আলফানসো থমাসের প্রথম শিকার হবার আগে ১২ বলে ১২ রান করেন। আরিফুলের বিদায়ের পর একপাশে লড়ে যান মাহমুদুল্লাহ। সাকলাইন সজিবের করা পনেরতম ওভারে এক চার ও এক ছয়ে ও এক সিঙ্গেলে ১১  রান তুলে নেন। দিলহারা ২ রানে রান আউটের শিকার হয়ে ফিরে যান। শেষ ৩০ বলে চিটাগং কিংসের জয়ের জন্যে প্রয়োজন ৫৫ রান। সতেরোতম ওভারের প্রথম বলে মাহমুদুল্লাহ থমাসের বলে ব্যকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ উঠিয়ে দেন। ২৮ বলে ৩ চার ও ৩ ছয়ে ৪৪ রানের ইনিংস শেষ করেন সজীব ক্যাচ ধরে। পরের বলে তাসকিনকে বোল্ড করে থমাস হ্যাটক্রিকের সম্ভাবনা জাগান। খমাসের বল এনামুল ড্রাইভ করে দুই রান তুলে নেন। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে এনামুল ১২৯ রানে রান আউটের শিকার হলে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা ঘরে তুলে ঢাকা গ্লাডিয়েটরস। ঢাকার পক্ষে থমাস ও রুবেল ৩টি করে উইকেট নেন।

ম্যান অব দা ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছে মোশাররফ রুবেল।