ড্যারেন সামীর নেতৃত্বে ক্যারিবীয় দল দুইদিন আগে ঢাকায় আসলেও আজই প্রথম মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে পা রেখেছেন। ১৩ নভেম্বর সিরিজের প্রথম টেস্ট মাঠে গড়াবে। গতকাল অনুশীলন করার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে হোটেল থেকে বের হতে পারেনি তারা। তাই আজ মিরপুরের মাঠে প্রথম অনুশীলন পর মুখোমুখি হলেন সাংবাদিকদের। দুপুর ১টায় হোটেল থেকে মিরপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলটি মাঠে এসে পৌঁছে দুপুর দেড়টার দিকে। অতঃপর দুপুর ২টার কিছু পরে ইনডোরে স্টেডিয়ামে অনুশীলন শুরু করে।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই স্যামির দলের আসন্ন সিরিজ নিয়ে প্রত্যাশা কি তা জানতে চাইলে স্যামি বলেন, টি-২০ বিশ্বকাপ জয় আমাদের একটি বড় অর্জন। এতে প্রত্যাশার চাপ বেড়েছে অবশ্যই। তবে যে কোন সিরিজে পারফর্মেন্সের চাপ তো থাকেই। তারপরও আমরা গত বারের মতো এই সিরিজেও জয় পুনরাবৃত্তি করতে চাই। আমাদের দল আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি সংগবদ্ধ। দলে নতুন কয়েক জন খেলোয়াড় উঠে আসছে। সে কারনেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা ধারাবাহিক ছিলাম। তাই এই সিরিজেও আমরা জয় চাই!
কোচ গিবসন বলেন, “আশা করছি সব ম্যাচ জিততে পারব। আমরা আবহাওয়া মনিটরিং করছি। আমাদের দলে অনেক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আছে, তরুন ক্রিকেটারও আছে। তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ নিয়ে আশাবাদী আর ক্যাস্প ঠিক মতো হলে খাপার কিছু হবে বলে মনে হয় না।”
আগের সিরিজে আপনাদের দলে কেমার রোজ ছিলেন। এবার তিনি নেই। এ বিষয়ে কি বলবেন? সামী বলেন, “কেমার রোচ গত বছর থেকে এই বছর পর্যন্ত আমাদের দলের সেরা পেসার ছিল। শেষ সিরিজে বাংলাদেশে এসে বেশ ভালো বল করেছে। এবার আমরা তাকে পাবো না। তবে ফিডেল এ্যাডওয়ার্ডস আর নারায়ন যু্ক্ত হওয়াতে চিন্তা কমেছে। এখন আমরা ব্যালেন্সড ও ধারাবাহিক দল হিসাবে প্রমান দিতে প্রস্তুত।”
বাংলাদেশ সম্পর্কে কি বলবেন? অতিথি দলের অধিনায়ক জবাবে বলেন, “বাংলাদেশকে হাল্কা ভাবে নেবার প্রশ্নই উঠে না। শেষ সিরিজে বাংলাদেশ খুবই ক্লোস্ড গেম খেলেছে। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের ক্ষমতা আছে এবং আমরা হার্ড ক্রিকেট খেলব। এবং এই সিরিজে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাব।”
গেইলের প্রত্যাবর্তন কেমন উপকার হচ্ছে? জবাবে জানান, বর্তমান সময়ে গেইল সবচেয়ে ভয়ংকর খেলোয়াড়। তাকে সাথে নিয়ে খেলা তো মানে একটু এগিয়ে থাকা।
২০১১ সালে খেলতে এসে ৩ ম্যাচের ওডিআই সিরিজের শেষ ম্যাচটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ চট্টগ্রামে হেরে গিয়ে ছিল। সে কারনেই এবার আগাম হুমকি দিলেন ড্যারেন সামী, “আমরা চ্যালেঞ্জ ঠিক করেছি সব ম্যাচ জেতার। তবে বাংলাদেশ দলের অভিজ্ঞ সাকিব, তামিম আর মুশফিকদের নিয়ে আমরা সর্তক আছি। তবে দল যাই হউক।”
হোম কন্ডিশনে বাংলাদেশকে প্রতিপক্ষ হিসাবে দুর্বল মনে হচ্ছে কিনা প্রশ্নে সামী বলেন, “এখানকার কন্ডিশন সম্পর্কে ভাল জানি। ৮ মাস ধরে আমার এই কন্ডিশনে খেলছি। ড্রেসিং রম্নমে সকলের বিশ্বাস আছে টেস্ট জেতার। আর আমাদের আবহওয়ার সঙ্গে এখানকার মিল আছে। ধীর গতির উইকেট, লো উইকেট আর আউটফিল্ড পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে মুল উইকেট সম্পর্কে জানি না। তবে যদি স্পিন উইকেট হয় তাহলে আমাদের বিশ্বমানের স্পিনার আছে। আর পেস হলে ভাল পেসারও আমাদের দলে আছে। এবং গেইল তো আছেই। আমরা আত্মবিশ্বাসী আমার আমাদের সাঁজানো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারব।”
একান্ত ব্যক্তিগত প্রশ্নে যখন স্যামিকে খেলার জগৎ ডট কম প্রশ্ন করে, “গ্যানগাম নাচ কি বাংলাদেশের মানুষ সরাসরি দেখবে? জবাবে তিনি জানান, আমরা সব সময় উদযাপন করি। আগেও হয়েছে! এখানেও করব!
