টেস্ট ক্রিকেটের এক যুগ পূর্তির অনুষ্ঠানে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন, আমরা প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ধাপে ধাপে উন্নতি করতে চাই।’’ সাহারা কাপ বাংলাদেশ – ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ শুরম্ন হবার তিনদিন আগে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের এক যুগ পূর্তি অনুষ্ঠানে বিসিবি সভাপতির এই অভিব্যক্তির সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান,তামিম ইকবাল,ইলিয়াস সানী। জাতীয় দলের এ সকল তরুণেরা তিন দিন পরেই খেলতে নামে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে। প্রথম টেস্টে হার ৭৭ রানে আর দ্বিতীয় টেস্টে হার ১০ উইকেটে। প্রাপ্তি কি দুই টেস্ট থেকে? ১১ মাস পরে টেস্ট খেলতে নামা বাংলাদেশের প্রাপ্তি হতে পারে দুইটি টেস্টই ৫ম দিন পর্যমত্ম নিয়ে যাওয়া, টেস্ট ক্রিকেটে রেকর্ড সংখ্যক ৫৫৬ রান , সাকিবের শততম উইকেট, নাঈম ইসলাম ও অভিষিক্ত আবুল হোসেনের শতক,আরেক অভিষিক্ত সোহাগ গাজীর দুই টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বাধিক ১২ উইকেট।

অপরদিকে আফসোস? নাসিরের দুই টেস্টের দুই ইনিংসে ৯৬ ও ৯৪ রানে আউট। সাকিব ৮৭ ও ৯৭ রানে আউট। তামিম ৭২ রানে অযাচিত শটস খেলে প্যাভিলিয়নে। ডেপুটি মাহমুদুলস্নাহ বড় রান করে শতক বিহীন থাকা। শাহরিয়ার নাফীসের ৩০ রানের ভীতি।

ওয়েস্ট ইন্দিজের ২-০ তে টেস্ট সিরিজ জয়

ওয়েস্ট ইন্দিজের ২-০ তে টেস্ট সিরিজ জয়

সাহারা কাপ বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ গত ১৩ই নভেম্বর মিরপুর হোম অব ক্রিকেট মাঠে শুরম্ন হয়। ১১ মাস পর টেস্ট খেলতে নামা বাংলাদেশ খেলার শুরুর দিন থেকেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে ম্যাচ রাখলেও শেষ অবধি তা আর কুলিয়ে উঠতে পারেনি। প্রথম ইনিংসে ক্যারিবীয় দল ৫২৭ রানের বিপক্ষে বাংলাদেশ ৫৫৬ রান করলেও মাত্র একটি শতক এসেছে। নাঈম ইসলাম ১০৮ রান করেন। আর সাকিব ৮৭ ও নাসির হোসেন ৯৬ রান করে আউট। ২৯ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং শুরম্ন করলে অভিষিক্ত সোহাগ গাজীর বোলিং ঘূর্ণিতে বেশামাল ক্যারিবীয়রা ২৭৩তে অলআউট। বাংলাদেশের সামনে জয়ের টার্গেট ২৪৪। হাতে ১০ উইকেট আর পুরো দেড় দিনের মতো সময়। কিন্তু হিতে বিপরীত হয়ে যায় সবকিছু। বাংলাদেশের উইকেটে পেস আক্রমণের ধার ছড়ালেন টিনো বেস্ট। নিজের ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করে বাংলাদেশকে উড়িয়ে দিয়ে ৭৭ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ক্যারিবীয়রা। অভিষেকের ম্যাচে সোহাগ গাজী প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে বেশ আলোচনায় চলে আসেন। অনেকেই ধারণা করে নিয়েছেন, নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের পর দ্বিতীয় কোন অফ স্পিনার বাংলাদেশ পেলো।
খুলনার উদ্বোধনী ম্যাচে অনেকেই আশা করেছিল বাংলাদেশ কিছু ভালো করার চেষ্টা করবে। চেস্টা তো করেছিল ঠিকই। কিন্তু কোন কাজে আসেনি কিছুই। খুলনার ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে প্রথমে ব্যাটিং এ নেমে স্কোর বোর্ডে সংগ্রহ ৩৮৭। জবাবে মারলন স্যামুয়েলস এর ম্যারাথন ব্যাটিং(২৬০) ও চন্দরপলের(১৫০) সিরিজের দ্বিতীয় শতকে ক্যারিবীয়দের রান ৬৪৮। বাংলাদেশ পিছিয়ে ২৬১ রানে। পূর্বের ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ খুব কম সংখ্যক বারই এই রান সংগ্রহ করে বিপক্ষ দলকে ব্যাটিং এ পাঠিয়েছে। কিন্তু এবার কিছুটা ব্যাতিক্মম হলেও ক্যারিবীয়দের সামনে ছিল মাত্র ২৭ রানের টার্গেট! ১০ উইকেটে জয় ক্যারিবীয়দের । ম্যাচটি বাংলাদেশ হেরে গেলে অতোটা আফসোস থাকতো না, কিন্তু সাকিবের ৯৭ ও নাসিরের ৯৪ রানের আউট আফসোসটাকে বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকখানি।

ব্যাটসম্যানদের রানের পরিসংখ্যান

নাম        প্রথম টেস্ট            দ্বিতীয় টেস্ট মোট রান
  প্রথম ইনিংস দ্বিতীয় ইনিংস প্রথম ইনিংস দ্বিতীয় ইনিংস   
নাসির হোসেন ৯৬ ২১ ৫২ ৯৪ ২৬৩
সাকিব আল হাসান ৮৯ ১৭ ৯৭ ২০৫
মাহমুদুলস্নাহ রিয়াদ ৬২ ২৯ ৭৬ ১৬৯
নাঈম ইসলাম ১০৮ ২৬ ১৬ ১৫২
তামিম ইকবাল ৭২ ২৮ ৩২ ১৩৭
আবুল হোসেন টস্ট দলে রাখা হয়নি ১০৮ ১১৫
মুশফিকুর রহিম ৪৩ ১৬ ৩৮ ১০ ১০৭
শাহরিয়ার নাফীস ২৩ ৩১ ২৬ ২১ ১০১

 

 

 

 

 

 

 

 

উইকেট সংগ্রহকারীর পরিসংখ্যান

নাম        প্রথম টেস্ট            দ্বিতীয় টেস্ট
প্রথম ইনিংস দ্বিতীয় ইনিংস প্রথম ইনিংস দ্বিতীয় ইনিংস
সোহাগ গাজী ৪৭-৭-১৪৫-৩ ২৩.২-২-৭৪-  ৫৭.৩-৪-১৬৭- ১-০-৮-০
সাকিব ৩৪-৪-১০৪-০ ১১-২-৫৬-২ ৫২-১১-১৫১-৪ বোলিং করেনি।
রুবেল হোসেন ১৮-০-৮৯-০ ১৯-৪-৫৩-২ ৩১-৮-৮৬-২ ২-০-১৪-০
শাহাদাত হোসেন ২১-৩-৮৫-১ ৭-১-৩৪-০  টেস্ট দলে রাখা হয়নি