মিরপুরের মাঠে ক্রিকেট বিশ্ব এক নুতন উচ্ছ্বাস দেখল। জয়ের জন্য দরকার ১ রানের। আন্দ্রে রাসেলের বল অফ সাইডে বল পাঠিয়ে নাসির হোসেন ক্রিজ পার করে পপিং ক্রিজে চলে আসলেও ওপারে থাকা ইলিয়াস সানী আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে অর্ধেক গিয়ে ফিরে এসে নাসিরকে জড়িয়ে ধরলেন। বাংলাদেশ শিবির থেকেও জহিরম্নল ইসলাম মাঠে এসে স্ট্যাম্প তুলে নিতে ব্যস্ত! অন্যদিকে ক্যারিবীয় ফিল্ডাররা বল নিয়ে এসে সানীর রান আউটের আবেদন। আম্পায়াররা রেফরির কাছে আবেদন পাঠালে তিনি বলটি কাউন্ট করেন তবে রান না দিয়ে আবার বল করার সিদ্ধান্ত দেন। পরের বলেই পয়েন্টের উপর দিয়ে চার হাকিয়েই নাসির বাংলাদেশের ২ উইকেটে জয় নিশ্চিত করেন।
দিবা রাত্রির ম্যাচে শুরুতে মুশফিকুর রহিম টসে জয়লাভ করে ফিল্ডিং করার সিদ্ধামত্ম নিয়ে ক্যারিবীয়দের ব্যাটিং এর আমন্ত্রণ জানান। বাংলাদেশ দলে দুটি পরিবর্তন করে মূল একাদশ সাজানো হয়। মাশরাফির ইনজুরিতে শফিউল ইসলাম ও নাঈমের জায়গায় জহিরুল ইসলামকে। ধারণা করা যাচ্ছিল আজ সিরিজের শেষ ম্যাচে অন্তত ক্রিস গেইল কিছুটা ঝড় বইয়ে দিবেন বোলারদের উপর। কিন্তু সেই ধারণাকে বাস্তব করতে দেননি মাশরাফির জায়গায় আসা শফিউল ইসলাম। পয়েন্টে দাড়ানো নাসিরের এক অসাধারণ ক্যাচে ক্রিস গেইল ১৯ বলে ২ রানে আউট! তবে ইনিংসের প্রথম আঘাত হানেন সোহাগ গাজী। সোহাগ পাওয়েলকে ১১ রানে নিজের দ্বিতীয় ওভারে স্ট্যাম্পিং এর ফাঁদে ফেলেন। স্কোর বোর্ডে রান ১৭। শফিউল ও গাজীর পরের দুটি ওভার মেডেন। ১২ বলে স্যামুয়েলস ও গেইল রান সংগ্রহ করতে না পেরে দিশেহারা হয়ে শফিউলের তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে রান নিতে গেলে মাহমুদুল্লাহর অসাধারণ এক থ্রোতে রান আউট হয়ে ফিরে যান। আর পরের ওভারেই গেইলকে তুলে নিলে স্কোর বোর্ডে ১৭ রানে ৩উইকেট। ক্রিজে থাকা ব্রাভো ও পোলার্ড দলের প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিয়ে ১৩২ রানের জুটি গড়ে তোলে। ৭৪ বলে ৮৫ রান করে মমিনুলের বলে আউট হবার আগে পোলার্ড ৫ টি চার ও ৮ টি ছয়ের মার মারেন। এর পরের গল্পটা বাংলাদেশের। মমিনুল নিজের প্রথম উইকেট শিকাররের পর পরের ওভারেই গত ম্যাচের নায়ক স্যামিকে ২ রানে আউট করে দেন। ১৫১ রানে স্যামি বিদায় নিলে লো স্কোরের সম্ভাবনা জেগে উঠে। কিন্তু ব্রাভো ও থমাস ৩২ রানে জুটি গড়ে তুলে কিছুটা স্কোর বোর্ডকে সচল রাখেন। তবে স্পিনারদের সামনে দাড়াতে না পেরে একে একে ব্রাভো(৫১), আন্দ্রে রাসেল(০), পেরামল(১০),
থমাস(২৫) ও রোচ(০) রানে আউট হয়ে ফিরে যান। ৪৮ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ২১৭ । বাংলাদেশের পক্ষে শফিউল ইসলাম ৩১ রানে ৩ টি ও মাহমুদুল্লাহ ও মমিনুল ২উইকেট ও সোহাগ গাজী ১ উইকেট নেন।
আগের দিনের টার্গেটের চেয়ে ৬ রান যোগ করে আজকের টার্গেট ২১৮। ২১৮ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ৩০ রানেই তামিম (৮), এনামুল (০) আর জহুরুলকে (১০) হারায়। মুশফিকের সাথে ক্রিজে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ৩০ রানে জুহিরুল বিদায় নিলে কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে খেলার পরিবর্তে দুই ব্যাটসম্যানই স্বভাবসুলভ খেলে ১০ ওভার শেষে ৫৯ রান তুলে দেন যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছিল ১০ ওভারে ২৬ রানে ৩ উইকেট। তবে সেই ব্যাটিং ধার আর বেশিক্ষণ ণ ধরে রাখতে পারেনি ব্যাটসম্যানরা। টানা তিন অর্ধশতকের চেস্টায় থাকা রিয়াদকে ৪৮ রানে ও মুশফিককে ৪৪ রানে বোল্ড করে ফিরিয়ে দেন নারিন । অর্ধেক ব্যাটসম্যানদের হারিয়ে তখন স্টেডিয়ামে দর্শকদের নিরাবতা। স্কোর বোর্ডে রান ১৩৩, ওভার ২৪.১। আর ২৫.৫ বলে বাংলাদেলের জয়ের জন্যে প্রয়োজন ৮৫ রান। ক্রিজে দুই নতুন ব্যাটসম্যন নাসির ও মমিনুল, শেষ দুই স্বীকৃত ব্যাটসম্যান। প্রথমেই স্যামির হাতে ক্যাচ দিলেও মিস হবার কারণে আরেকটি জীবন পান মমিনুল। এর পরে এই দুই ব্যাটসম্যান ৫৩ রানের জুটি গড়ে ম্যাচের চেহারাটা পাল্টে দেন। ২৫ রানে মমিনুল বিদায় নিলে বাংলাদেশের প্রয়োজন ৩২ রান্। শেষ কাজটা ছিল নাসির আর সোহাগের। সোহাগ দ্রুত ১৯ বলে ১৯ করলেও জয়ের দারপ্রান্তে এসে আউট হয়ে যান । এক বল পরেই রাজ্জাক কেমার রোচের তৃতীয় শিকার হয়ে ফিরে গেলে আবার চাপের মুখে পরে বাংলাদেশ। ক্যাববীয়দের জয়ের জন্যে দরকার ২ উইকেট আর বাংলাদেশের প্রয়োজন ৩ রান । আন্দ্রে রাসেলের প্রথম বলেই ১ রান নিয়ে নেন নাসির ও পরের দুটি বল ডট খেলে তৃতীয় বলে ১ রান নিয়ে সানী স্কোরকে সমান করেন। পরের বলে নাসির অফে হাকালেও সানীর বোকামিতে আবারো বল করতে হয় রাসেলের। কিন্তু এবার সীমানা ছাড়া করেই জয় নিশ্চিত করেন নাসির। নাসির ৩৯ রানে অপরাজিত থেকে ও সানী ১ রানে অপরাজিত থেকে জয় নিয়ে ছাড়েন। ক্যারিবীয়দের পক্ষে কেমার রোচ ৫৬ রানে ৫ উইকেট নেন ও নারিন ৩৮ রানে ৩ উইকেট নেন।
ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ আর সিরিজ সেরা টাইগার অধিনায়ক মুশফিক। আগমী ১০ ডিসেম্বর এই সফরের শেষ একমাত্র টি-২০ খেলার জন্যে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিকাল ৫.৩০ মিনিটে মুখোমুখি হবে মিরপুর স্টেডিয়ামে ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
টস বাংলাদেশ (ফিল্ডিং)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ২১৭ অলআউট, ৪৮ ওভার
বাংলাদেশ : ২২১/৮, ৪৪ ওভার
ফলাফল: বাংলাদেশ ২ উইকেটে (৩-২ ব্যবধানে সিরিজ জয়)
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মুশফিকুর রহিম (বাংলাদেশ)
ম্যান অব দ্য সিরিজ: মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (বাংলাদেশ)


