ভারত এবং পাকিস্তান প্রতিবেশী দুই দেশ। নানান কারণে এই দুই দেশের মাঝে সবসময় যুদ্ধ অবস্থা বিরাজ করে। একই অবস্থা ক্রিকেট মাঠেও। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ম্যাচ মানেই অন্যরকম কিছু। অন্য আর দশটা ম্যাচের থেকে ভারত বনাম পাকিস্তানের ম্যাচের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকেন সকল ক্রিকেট প্রেমী দর্শকেরা। ম্যাচের গ্যালারিও থাকে কানায় কানায় পূর্ণ।
সমর্থকদের পাহাড় সমান চাপ সামলে মাঠে লড়াই করতে হয় ভারত এবং পাকিস্তান দুই দলের খেলোয়াড়দের। তবে এই ম্যাচের চাপ নেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি। কোহলির মতে ভালো খেললে প্রতিপক্ষকে এমনিতেই হাড়ানো সম্ভব।
ভারত এবং পাকিস্তান ম্যাচে চাপ সম্পর্কে ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি জানান, ‘আমি এই ম্যাচকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছি না। ভালো খেললে আমরা যে কাউকেই হারাতে পারব। বিপক্ষ দল নিয়ে আলাদা কোনো কৌশল নেই। খেলোয়াড়দের জন্য যে কোনো দলের বিপক্ষে পেশাদারি হওয়াটা খুব জরুরী। একটা খেলা আমাদের জন্য আলাদা কিছু নয়। বিপক্ষ দলের কথা চিন্তা না করে সমানভাবে নিজেদের খেলাটাই আমাদের দায়িত্ব। আমরা যেভাবে ক্রিকেট খেলি তার জন্য আমরা বিশ্বে উঁচু পর্যায়ে আছি।’
খেলোয়াড়দের কাছে নয় দলের সমর্থকদের কাছে ম্যাচটি অন্য আর দশটা ম্যাচের থেকে আলাদা। কোহলির মতে এই ম্যাচ নিয়ে দলের প্লেয়ারদের চিন্তা না করে ভালো। বিরাট বলেন, ‘দর্শকদের চোখ দিয়ে দেখতে গেলে এই ম্যাচটা আলাদা। কিন্তু খেলোয়াড়দের মানসিকতা ঠিক রাখতে এবং পেশাদারি হতে হবে। দলের জয়ে সবারই অবদান রাখা জরুরি। আমরা সব খেলোয়াড়েরই শক্তিশালী দিকটা জানি। আমাদের বোলাররা খুব ফুরফুরে মেজাজে আছে। তারা সবাই খুব অভিজ্ঞ এবং গত দুই ম্যাচে খুব ভালো পারফরমেন্স করেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের প্রস্তুতি নিয়ে আমি খুব একটা চিন্তিত নই।’
বলতে গেলে ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের থেকে এই ম্যাচের দর্শক-প্রিয়তা এবং টেলিভিশন টিআরপি সব থেকে বেশি। সবকিছু মিলিয়ে ব্যাট এবং বলের জমজমাট এক লড়াইয়ের অপেক্ষায় আছে ক্রিকেট ভক্তরা। এই বিষয়ে কোহলি বলেন, ‘আমি এখানে টিআরপির জন্য আসিনি। আমার সামনে যেই আসুক না কেন আমি শুধু সাদা বলটাই দেখি। বোলারদের সঙ্গে আমার কোনো প্রতিযোগিতা নেই। আমি যদি রান করি তাহলে বাকি দশজনেরও পারফর্ম করা দরকার। ক্রিকেটার হিসেবে আপনি চিন্তা করবেন কিভাবে দলের জন্য অবদান রাখতে পারেন।’