bd vs s314সহজ জয় হাতছাড়া করলো বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কাকে সহজেই হারাতে পারতো বাংলাদেশ। কিন্তু হলো না। শ্রীলঙ্কার করা ১৮১ রানের জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে ১৬৭ রানে আটকে ১৩ রানের পরাজয়ের স্বাদ নিতে হলো স্বাগতিকেদের। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে রুবেল হোসেন রান  আউট হলে পরাজয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। তবে এক সময়ে জয়ের পথে ভালোই এগুতে থাকে বাংলাদেশ। ১৯.৪ বলে ২ উইকেটে বাংলাদেশ ১১৪ রান তুলে নেন। সে সময়ে ক্রিজে থাকা তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন। সেখান থেকেই শুরু। পাল্লা দিয়ে সাজঘরে ফিরে আসেন ব্যাটসম্যানরা।  সাকিব আল হাসান (৩), নাসির হোসেন (৮) , মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (০) , সোহাগ গাজী (৬)  ও আরাফাত সানী (৫) দ্রুত সাজঘরে ফিরে আসেন। ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিলে মুশফিক একপ্রান্ত  আগলে খেলতে থাকলেও দৈর্য্যহারা হয়ে যান। ম্যাথুসের বলে অযাচিথ হুক করতে গিয়ে নিজের উইকেট বিসর্জন দেন তিনি। ৫০ বলে ২৭ রান করেন টাইগার দলপতি। ইনিংসের শুরুতে রানের খাতা খোলার আগে সাজঘরে ফিরেন আনামুল হক বিজয়। প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে স্পিলে ম্যাথুসের তালুবন্দি হয়ে সাজঘরে ফিরে যান আনামুল হক বিজয়। দ্বিতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশ। মুমিনুল হক ও শামসুর রহমান ৭৯ রান যোগ করেন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক তুলে নেবার পথে থাকা মুমিনুল ৪৪ রানে সাজঘরে ফিরেন। এটি তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ স্কোর। ৫৩ বলে ৭ বাউন্ডারি এ রান করেন তিনি। এর আগে ৩৮ রান করেছিলেন মুমিনুল। মুমিনুলের বিদায়ের পর মুশফিকের সাথে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন শুভ। দলকে টেনে নেন ১১৪ রান পর্যন্ত। এ সময়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অর্ধশতক তুলে নেন শুভ। তবে ভাগ্যদেবী মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় রান আউট হতে হয় তাকে। কুলাসেকারের বলে ডাবল রান নিয়ে ক্রিজে ফিরে এসেও আউট হতে হয় শুভকে। কারণ পপিং ক্রিজে ব্যাট স্পর্শ করার আগে শুভর হাতের থেকে ব্যাট পড়ে যায়। তৃতীয় আম্পায়ার আনিসুর রহমান আউট দেন শামসুর রহমানকে। সাজঘরে ফিরে আসার আগে শামসুর রহমান ৪৯ বলে ৬২ রানের ইনিংস খেলেন। ৩টি ছক্কার সাথে হাকিয়েছেন ৫টি চার। এর আগে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শ্রীলঙ্কা ১৮০ রানে আটকে যায়। শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ ৮০ রান করেন থিসারা পারেরা। এছাড়া ৩০ রান আসে সুচিত্রা সেনানায়েকের ব্যাট থেকে। বাংলাদেশি বোলারদের হয়ে ২টি উইকেট নেন সাকিব আল হাসান,রুবেল হোসেন ও আরাফাত সানী।  বোলার ও ফিল্ডারদের দাপটে ৬৭ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। শত রানের আগেই গুটিয়ে যাবার সম্ভাবনাও তৈরি হয়। কিন্তু নবম উইকেটে সুচিত্রা সেনানায়েক ও থিসারা পারেরা জুটি বেঁধে শ্রীলঙ্কাকে ম্যাচে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। এই দুই ব্যাটসম্যান নবম উইকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৮৩ রানের জুটি গড়েন। শ্রীলঙ্কাকে বড় স্কোর গড়তে সাহায্য করে বাংলাদেশি ফিল্ডাররা। থিসারা পারেরা লং অনে সোহাগ গাজী ও নাসির হোসেনের হাতে জীবন পান। তার সঙ্গী সুচিত্রা সেনানায়েকে স্লিপে মাহমুদুল্লাহর হাতে জীবন পান। এই জুটি ভাঙ্গেন সাকিব আল হাসান। দলীয় ১৪৯ রানে সেনানায়েকে সরাসরি বোল্ড করেন সাকিব। এরপর মালিঙ্কাকে সোহাগ গাজী বোল্ড করলে ১৮০ রানে অল             আউট হয় শ্রীলঙ্কা।  লঙ্কান শিবিরে প্রথম আঘাত করে রুবেল হোসেন। রুবেলের বলে পুল করতে গিয়ে মুশফিকের তালুবন্দি হন দিলশান (৩)। এক ওভার পরই কৌশল পেরেরাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন এই ডানহাতি পেসার। অপর প্রান্তে থাকা অভিষিক্ত আল-আমিন হোসেন ছিলেন উইকেটের খোঁজে। কস্ট করতে হয়নি। একাদশ ওভারে কুমার সাঙ্গাকারা (৮) বিদায় করেন ঝিনাইদহের এই পেসার। উইকেটে আসার নতুন ব্যাটসম্যান আশান প্রিয়ঞ্জনকে টিকতে দেননি সাকিব। ১২তম ওভারে প্রথম বোলিংয়ে এসে প্রিয়ঞ্জনকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন দেশ সেরা এই অলরাউন্ডার। এরপর দ্রুত রান আউটের শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরেন দিনেশ চান্দিমাল। এরপর আরাফাত সানী নিজের ঘূর্ণি দেখান। পরপর দুই ওভারের শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ও নুয়ান কুলাসেকারাকে বোল্ড অভিষেক হওয়া আরাফাত সানী। বিপদে থাকা শ্রীলঙ্কাকে আরও বিপদে ফেলেন মুশফিকুর রহিম। ঢাকা টেস্টে শতক হাকানো ভিথানাগেকে সরাসরি থ্রোতে রান আউট করেন মুশফিকুর রহিম। ৬৭ রানে ৮ উইকেট হারানো শ্রীলঙ্কাকে এরপর ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন থিসারা। ক্যারিয়ারের তৃতীয় অর্ধশতক তুলে নেন পারেরা এবং এটি তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ রান। ৫৭ বলে ছয়টি ছয় ও চারটি চার হাকিয়ে ৮০ রানে অপরাজিত থাকেন বাহাতি এই ব্যাটসম্যান। এ জয়ে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল শ্রীলঙ্কা।