টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার টেনের যাত্রাটা হার দিয়ে শুরু করলো বাংলাদেশ। মঙ্গলবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৭৩ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের আমন্ত্রণে ব্যাটিংয়ে নেমে স্কোরবোর্ডে ১৭১ রান জমা করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে স্বাগতিকেরা ৯৮ রানে গুটিয়ে যায়। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৬ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। প্রথমে সাজঘরে ফিরেন তামিম ইকবাল (৫)। বোলার ছিলেন স্যামুয়েল বাদ্রি। এরপর ইনিংসের চতুর্থ ওভারে পরপর দুই বলে আউট হন আনামুলক হক (১০) ও সাকিব আল হাসান (০)। দুটি উইকেট নেন ক্রিসমার সান্টোকি। এরপর দলকে ৫১ রান পর্যন্ত টেনে নেন মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিম। দলে সুযোগ পাওয়া মুমিনুল হক ১৯ বলে ১৬ রান করেন। দলীয় ৫১ রানে সুনিল নারিনের বলে আউট হলে বাংলাদেশ চতুর্থ উইকেট হারায়। এরপর ৫১ থেকে ৫৯ পর্যন্ত যেতেই আরও ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৩টি উইকেটটি নেন স্যামুয়ের বাদ্রি। ব্যাক্তিগত শেষ ওভারে বোলিংয়ে এসে ২ রানে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে তার বোলিং ফিগার ৪-০-১৫-৪। ৫৯ রানে ৭ উইকেট হারানো বাংলাদেশ আর বেশিদূর এগুতে পারেনি। ৯৮ রানে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে সোহাগ গাজী আউট হলে স্বপ্নভঙ্গ হয় বাংলাদেশের। এর আগে প্রথমে ব্যাটিং করে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭১ রান করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭২ রান করেন ডোইন স্মিথ। গেইলের ব্যাট থেকে আসে ৪৮ রান করেন। উদ্ধোধনী এই জুটি শুরুতেই ৯৭ রানের জুটি গড়েন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান পেতে সাহায্য করে টাইগাররা। অতিরিক্ত খাত থেকে ১৯ রান জমা করে ক্যারিবীয়ানরা। টসে জিতে ফিল্ডিং করতে নেমে প্রথম ওভারেই ১১ রান খরচ করেন মাশরাফি। প্রথম বলে ওয়াইডের পাশাপাশি বাই চার। এক সাথে ৫ রান। এরপর ক্রিস গেইলের মেজাজে ব্যাটিং করেন ডোয়াইন স্মিথ। ৩৩ বলে অর্ধশত রান তুলে নেন স্মিথ। অপরপ্রান্তে থাকা গেইলের রান ২৫ বলে ১৭ রান। দলীয় ৯৭ রানে প্রথম উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে ফেলে সাজঘরে ফিরেন। আউট হবার আগে ৪৩ বলে ৭২ রান করেন স্মিথ। উইকেটটি নেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। পরের ওভাওে বোলিংয়ে এসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে আঘাত করেন সাকিব। স্ট্যামিংয়ের শিকার হন সিমন্স। এই উইকেট নিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশিদের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট নেবার কৃতিত্ব দেখান সাকিব। সিমন্সের বিদায়ের পর তৃতীয় উইকেটে গেইল ও স্যামুয়েলস দ্রুত ৩৭ বলে ৫৩ রান যোগ করেন। খোলস খুলে এসে বোলারদের উপর ব্যাট চালাতে থাকে গেইল। ৪৮ রানে জিয়াউর রহমানের বলে আউট হবার আগে ৩ চার ও ২ ছয় হাকান গেইল। দলীয় ১৫১ রানে গেইলের বিদায়ের পরও বড় সংগ্রহ পেত ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু রানের চাকায় লাগাম ধরে রাখেন পেসার আল-আমিন হোসেন। শেষ ওভারে ৪ রান দেবার পাশাপশি তিন উইকেট তুলে নেন এই পেসার। সাথে ছিল একটি রান আউটও। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন ডোয়াইন স্মিথ।