স্টুয়ার্ট ল চলে যাচ্ছেন আজই
জুনে চাকরির ১০ মাস পূর্ণ করে ঢাকা ছাড়ার কথা ছিল ল’র। সেটাও হলো না শেষ পর্যন্ত। দুই বছরের চুক্তিটা শেষ হয়ে গেল ৮ মাসেই। ল ঢাকা ত্যাগ করবেন আজ। বিসিবি’র সঙ্গে আলোচনা করে এপ্রিলের বেতন নিয়ে আজই বাংলাদেশ অধ্যায়কে গুডবাই বলে বিমান ধরবেন এই অস্ট্রেলিয়ান। গতকাল মিরপুরে তিনি শেষবারের মতো মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেন। বিমানে পা রাখার আগে স্টুয়ার্ট ল বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের প্রতিভার জয়গান গেয়ে গেছেন। সাকিব-তামিমদের উন্নতির ধারা বজায় রাখতে আরও বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার প্রতি জোর দিয়েছেন তিনি। আগামী বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভালো করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ল। এছাড়া আগামীতে যিনিই বাংলাদেশের কোচ হবেন বাংলাদেশে তার সময়টা মুশফিকদের সঙ্গে ভালো কাটবে বলে জানান ল।
২০১১ সালের আগস্টে বাংলাদেশ দলে যোগ দেন ল। ল’র তত্ত্বাবধানে ৫ টেস্টে ১টি ড্র, ২টি টি-২০’র একটিতে জয়, ১৫টি ওয়ানডের ৪টিতে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। স্টুয়ার্ট ল’র অধীনে ক্রমেই যেন বাংলাদেশ দলটা নতুন চেহারায় আবির্ভূত হচ্ছিল। দলের মধ্যে গ্রুপিং, কোচের পছন্দের ক্রিকেটার—এমন সব বিতর্কই যেন মিলিয়ে গেল। খুব বেশি পরিবর্তনের পক্ষে না গিয়ে ক্রিকেটারদের শেখালেন নিজের চেনা স্টাইলেই খেলতে। দলটাকে উজ্জীবিত করে তুললেন পারফরম্যান্সের ধারায়। এশিয়া কাপে যার বিস্ফোরণ দেখল বাংলাদেশ আর গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। মুশফিকদের পারফরমেন্স সবচেয়ে বেশি অনুভব করেছে উপমহাদেশের তিন ক্রিকেট জায়ান্ট ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। ভারত ও শ্রীলঙ্কা পেয়েছে হারের তিক্ত স্বাদ। ল’র শিষ্যরা পাকিস্তানকে হারাতে না পারলেও হারের ভয় দেখিয়েছে। ২ রানে ফাইনাল হারলেও এশিয়া কাপে দর্শকহৃদয়জয়ী ক্রিকেট খেলার দৌড়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। তখনই ভাবনা হয়েছিল ল’র হাত ধরে অনেক দূরে যাবে বাংলাদেশ। কিন্তু হঠাত্ ল’র বিদায়ের খবর বাংলাদেশ ক্রিকেটকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
শেষবারের মতো বাংলাদেশ মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে ল’ বলেন, ‘এটা সম্ভব হয়েছে প্রতিভাবান, পরিশ্রমী সব ক্রিকেটারদের জন্য। আগামী বিশ্বকাপ হবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে। আশা করছি, বিশ্বকাপ ভিন্ন কন্ডিশনে হলেও বাংলাদেশ ভালো করবে। ক্রিকেটাররা সেই আত্মবিশ্বাসটা পেয়েছে। তারা যেকোনো কন্ডিশনেই ভালো খেলার সামর্থ্য রাখে।’







