টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডে অঘটনের শিকার হল বাংলাদেশ। নিজেদের শেষ ম্যাচে হংকংয়ের বিপক্ষে ২ উইকেটে হেরেছে টাইগারররা। তবে হেরেও বিশ্বকাপের মূল পর্ব বা দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করলো টাইগাররা। রান রেটে এগিয়ে থাকায় নেপালকে টপকে দ্বিতীয় রাউন্ড খেলবে বাংলাদেশ। শুরুতে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট হংকংকের। প্রথম ওভারে আল-আমিনের ওভার থেকে তুলে নেয় ১০ রান। পরের ওভারেই সাকিবের ব্রেক থ্রু।দ্বিতীয় উইকেটে ৩৪ বলে ৩৪ রান তুলে নেয় অধিনায়ক জিমি অ্যাটিকসন ও ওপেনার ইরফান আহমেদ। আক্রমণাত্মক ছিলেন ইরফান আহমেদ। রাজ্জাকের করা পঞ্চম ওভারে  এক ছয় ও দুই চারে তুলে নেয় ১৫ রান। এক ওভার পর আল-আমিনের বলে আবারো ছক্কা হাকান ডান হাতি এই ওপেনার। তবে ২৮ বলে ৩৪ রান করা ইরফানকে অষ্টম ওভারে ফেরানোর দায়িত্ব নেন সাকিব। সাকিবের ঘূর্ণিতে এলবিডাব্লিউ ইরফান। ৪৪ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানোর পর ছয় রাBangladesh-dejected.jpgন যোগ করতেই আরও তিন উইকেট হারায় অতিথীরা। সাকিব,আল-আমিন ও মাহমুদুল্লাহ একটি করে উইকেট নেন। ৫০ রানে ৫ উইকেট হারানো হংকংয়ের জন্যে ১০৯ রান তখন দিবাস্বপ্ন। সেখান থেকে নিজাকাত খান ও মুনির দার ৩৩ রানের জুটি গড়েন। এরপর  দলীয় নিজাকাত খান ব্যাক্তিগত ১২ রানে সাজঘরের পথ ধরেন। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ তার দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন। সে সময়ে জয়ের থেকে ২৬ রান পিছিয়ে হংকং। হাতে মাত্র ৪ ওভার। ১৭তম ওভারে বল হাতে নেন ফরহাদ রেজা। ২ চার ও ১ ছয়ে ১৫ রান তুলে নেন ব্যাটসম্যান মুনির খান। ব্যবধান কমে আসে মাত্র ১১ রানে। তবে ভরসা দেয়া মুনির খান পরের ১৮তম ওভারে রাজ্জাকের শিকার হন। ২৭ বলে ৩৬ রান করেন তিনি। পরের ওভার বল হাতে নেন সাব্বির রহমান। তৃতীয় বলে সরাসরি বোল্ড করে ফিরিয়ে দেন তানভির আহমেদকে। শেষ বলে ছয় বলে ছয় রান প্রয়োজন হংকংয়ের। হাতে দুই উইকেট। কিন্তু দূর্বার হংকং রাজ্জাকের করা ওভারের চতুর্থ বলে ছয় হাকিয়ে জয় নিশ্চিত করে। এর আগে নিজেদের পয়মন্ত ভেন্যু চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বিপাকে পরে বাংলাদেশ। ১৬ ওভার ৩ বলে মাত্র ১০৮ রানে অলআউট হয়ে যায় মুশফিকরা। বাংলাদেশের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান  ও ব্যার্থডে বয় তামিম রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন। উইকেট শিকারি তানভির আফজাল। ২৫ বছরে পা দেয়া তামিম নিজ মাটিতে দর্শকদের হতাশ করেই মাঠ ছাড়েন। স্কোরবোর্ডে ৩ রান যোগ হতেই একই বোলারের শিকার তরুণ সাব্বির রহমান রুম্মন।ক্রিজে আসা সাকিব তৃতীয় উইকেটে আনামুলকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ায়। ৪৮ রান যোগ করেন এই দুই ব্যাটসম্যান। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে নাদিম আহমদের বলে বোল্ড হওয়ার আগে এনামুল করেন ২৬। অপরপ্রান্তে থাকা সাকিব ছিলেন নিজ মেজাজে। মুশফিককে সাথে নিয়ে ১০ ওভারে তুলে নেন ৮০ রান। এরপর দৃশ্যপটের পরিবর্তন ঘটে। ৮৫ রানে বাংলাদেশের ত্রাণকর্তা সাকিব আল হাসান সাজঘরের পথ ধরেন। ইরফান আহমেদের বলে আউট হবার আগে ২৭ বলে ৬ চারে ৩৪ রান করেন সাকিব। এরপর স্কোরবোর্ডে ১০২ রান পর্যন্ত যেতেই সাজঘরে বাংলাদেশের ৫ ব্যাটসম্যান। ৮৫ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর ৯ উইকেটে বাংলাদেশের রান ১০২। সাজঘরে মুশফিকুর রহিম(২৩), মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ(২), ফরহাদ রেজা(০), আব্দুর রাজ্জাক (০) ও রুবেল হোসেন(০)। ১০২ রানে নবম উইকেট হারানো বাংলাদেশ ৬ রান যোগ করতেই শেষ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে। নাদিমের বলে লং অনে ক্যাচ দেন আল-আমিন হোসেন। বাংলাদেশের ইনিংসকে একাই ধসিয়ে দেন নাদিম। মাত্র ২১ রানে ৪ উইকেট নেন তিনি। ম্যাচ সেরাও নির্বাচিত হন তিনি।