আট ম্যাচ পর জয়ের স্বাদ পেল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত। এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে তারা। ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানায় ভারত। বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৭৯ রান জমা করে। শতক হাকান টাইগার দলপতি মুশফিকুর রহিম (১১৭)। জবাবে ভারত ৬ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে সহজেই জয়ের বন্দরে নোঙর করে। দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের অধিনায়ক ভিরাট কোহলী শতক হাকিয়ে সহজেই জয় নিশ্চিত করে। তার ব্যাট থেকে আসে ১৩৬ রান। ২৮০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৫৪ রানে শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মার উইকেট হারিয়ে ভারত কিছুটা চাপে পড়ে। কিন্তু দলপতি ভিরাট কোহলি সতীর্থ আজিঙ্কাকে সঙ্গে সহজেই ধাক্কা সামলে নিয়ে বাংলাদেশের থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে আনেন। ২১৩ রানের জুটি গড়েন এই দুই ব্যাটসম্যান। এ সময়ে ভিরাট ক্যারিয়ারের ১৯তম সেঞ্চুরি তুলে নেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি তার তৃতীয় শতক। ৯৫ বলে ১২টি চার ও ১টি ছয়ে শতক তুলে নেবার পর ১৩৬ রানে রুবেলের বলে বোল্ড হন ডান হাতি এই ব্যাটসম্যান। সতীর্থ রাহানে করেন ৭৩ রান। ৮৩ বলে ৭টি চার ও ১টি ছয়ে এ রান করেন তিনি। তাকে আউট করেন সোহাগ গাজী। ক্যাচটি নেন দ্বাদশ খেলোয়াড় ইমরুল কায়েস। বাংলাদেশের দুই পেসার মাশরাফি এবং রুবেল হোসেন শুরুতে ভারতের দুই ব্যাটসম্যান শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মাকে বেশ চাপে রাখেন। তারা দুজনে ১টি করে মেইডেন ওভার তুলে নেন। কিন্তু রাজ্জাকের বলে এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে ফিরে যান তিনি। পরে আউট হন শর্মা। দ্বাদশ ওভারের দ্বিতীয় বলে রাজ্জাকের এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন ধাওয়ান। যাওয়ার আগে ৪৪ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ২৮ রান করেন। এরপর জিয়াউর রহমানের বলে বোল্ড আউট হয়ে ফিরে যান রোহিত শর্মা। তিনি ১চার ও ১ ছয়ে ২১ রান করেন। অবশ্য শতক হাকানোর পথে জীবন পান ভিরাট। সোহাগ গাজীর বলে ৩৫ রানে রুবেল হোসেন ভিরাটের ক্যাচ মিস করেন। আর এই ম্যাচ মিসে ম্যাচটাও মিস হয়ে যায় বাংলাদেশের। এর আগে টসে হেরে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির উপর ভর করে ৭ উইকেটে ২৭৯ রান করে বাংলাদেশ। ১১৩ বলে ৭ চার ও ২ ছয়ে ১১৭ রান করেন তিনি। এটি তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংস। এর আগে ২০১১ সালে ১০১ রানের ইনিংস খেলে প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ নেন মুশফিক। ভারতের বিপক্ষে মুশফিকের ইনিংসটি ছাড়াও ব্যাট হাতে আলো ছড়ান আনামুল হক বিজয়। ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই বাজিমাত করেন আনামুল হক বিজয়। তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক। কিন্তু অর্ধশতককে আর শতকে পরিণত করতে পারেননি তিনি। ব্যক্তিগত ৭৭ রানে অরুণের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান। আনামুলের ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক হলেও এরই মধ্যে শতকের দেখা পেয়েছেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খুলনায় শতক হাঁকান আনামুল। ভারতের বিপক্ষে শুধু অর্ধশতকই হাঁকাননি তিনি; তৃতীয় উইকেটে মুশফিকের সঙ্গে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন এই যুবা। ১৪৯ বলে ১৩৩ রান করে বাংলাদেশকে শুধু ক্ষাদের কিনারা থেকে বের করেনি; দলকে শক্ত ভিত এনে দেয়। এটি ভারতের বিপক্ষে যেকোন উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান। এর আগে ২০১২ এশিয়া কাপে দ্বিতীয় উইকেটে তামিম ও জহুরুল ১১৩ রান করেন। মুশফিকুর রহিম ও আনামুল ছাড়া মুমিনুল হক ২৩, জিয়াউর রহমান ১৮ ও নাঈম ইসলাম ১৪ রান করেন। ভারতের পক্ষে মোহাম্মদ শামি ৪টি উইকেট পান।